নেত্রকোণায় আগাম বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে বোরো ফসল। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, জেলার ১০ উপজেলায় ৭৭ হাজার ৩৬৩ জন কৃষকের ১৬ হাজার ৭৭৮ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল ১৮ হাজার ৪৭৮ হেক্টর জমি। এতে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়েছে ৭৫ হাজার ৯৪৯ দশমিক ৪৩ টন ধান, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৭২ কোটি ১৫ লাখ ২২ হাজার টাকা। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে আবাদ হয়েছিল ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে। নিমজ্জিত হয় ১১ হাজার ২৩০ হেক্টর জমি এবং সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে ১০ হাজার ৭২৭ হেক্টর জমির ফসল। এতে উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে ৪৮ হাজার ২৭১ দশমিক ৫০ টন ধান, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৩৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। জেলার মোট ক্ষতিগ্রস্ত ৭৭ হাজার ৩৬৩ কৃষকের মধ্যে হাওর এলাকার কৃষকই ৩৮ হাজার ২৩৮ জন। খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা হিসেবে পরিচিত নেত্রকোণায় এবার আগাম বর্ষা ও অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ধান পাকার মৌসুমেই মাঠের ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক কৃষক এখনো পানির নিচে থাকা ধান রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তীব্র শ্রমিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অন্যদিকে বাজারে ধানের দাম কম থাকায় দুশ্চিন্তা বেড়েছে কৃষকদের। এদিকে শুরু থেকেই ক্ষতি হাওর এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন নেত্রকোণা-২ আসেন সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হক এবং নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালী। তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের কথা শুনেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বার্তা প্রণোদনা বিষয়টি পৌঁছে দিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রণয়নের যাতে কোনরকম ছয়নয় না হয় সে ব্যাপারে দলীয় নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, শ্রমিক সংকট নিরসনে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ, আর্থিক সহায়তা এবং ধানের ওজন ও বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। নেত্রকোণা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রাকিবুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ছিল ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমি। জেলায় মোট ১৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ৫৯০ টন। তিনি আরও বলেন, জেলার ১০ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ৭৭ হাজার ৩৬৩ কৃষকের মধ্যে হাওর এলাকার কৃষক ৩৮ হাজার ২৩৮ জন। উৎপাদনে সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে ৭৫ হাজার ৯৪৯ দশমিক ৪৩ টন ধান, যার মূল্য প্রায় ৩৭২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তাসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্বচ্ছতার সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
