বাগেরহাটে জমির ধান লুটে নেয়া, হামলা-ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। শুক্রবার সকালে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে জেলার চিতলমারী উপজেলার কুরমনি গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রতুল বড়ালের ছেলে লিটন বড়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত প্রতুল কুমার বড়ালের একমাত্র ছেলে। বাবার রেখে যাওয়া ফসলি জমি চাষাবাদ করে পরিবার নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। চলতি মৌসুমে চিতলমারী উপজেলার কুরমনি মৌজার ৫৬৩ দাগে ১৮৩নং খতিয়ানের জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। গত বুধবার চিতলমারী সদর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম খানের বড় ভাই লতিফ খান ৮-১০ জন লোক নিয়ে আমার ওই জমির পাকা ধান লুট করে নিয়ে যায়।
ধান লুটের সময় বাধা দিতে গেলে পুড়িয়ে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে ফেলার হুমকি দেয়। এ অবস্থায় তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি আরও বলেন, জমির বৈধ কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে। আমার জমি দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ওই চক্র বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছে। আমি জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালাচ্ছে।
লতিফ খান গত ২০২৪ সালের ৬ই আগস্ট আমার কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা না দেয়ায় সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা চালিায়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও দোকানের মালামাল লুট করে নেয়। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ২রা আগস্ট বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম খানের চাচাতো ভাই বাসার খান চিতলমারী থানার পাশে তার মার্কেটে তালা লাগিয়ে জোরপূর্বক দখল করে নেন। পরে প্রশাসনের সহায়তায় তালা খুলে দিলেও হুমকি-ধমকি অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। লিটন বড়াল বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই।
প্রভাবশালী ওই চক্র আমার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের কাছে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও নিজের জায়গা-জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখলের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিটন বড়ালের বোন সুমা বড়াল, দুই শিশু পুত্র ভ্যালেনটাইন বড়াল ও নক্ষত্র বড়াল উপস্থিত ছিলেন।
