চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো এখন কার্যত চিকিৎসক শূন্য। উপজেলার চারটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তিনটিতেই চিকিৎসকের বদলে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন পিয়ন বা অফিস সহায়ক। সরজমিন দেখা যায়- আধুনগর, চরম্বা ও আমিরাবাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক নিয়মিত থাকেন না। অনিয়মিতভাবে কখনো স্বাস্থ্য পরিদর্শক এলেও, অধিকাংশ সময় রোগীকে অভ্যর্থনা জানায়- একজন অফিস সহায়ক।
যিনি প্যারাসিটামল কিংবা খাবার স্যালাইন ধরিয়ে দিয়েই দায় শেষ করেন। এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র সরকারি নিয়োগ থাকলেও বাস্তবে হাসপাতালেই চিকিৎসক নেই। অনেকেই ডেপুটেশন নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। ফলে মূল কর্মস্থলে স্বাস্থ্যসেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে এমন দৃশ্য বেশি দেখা গেছে। এ বিষয়ে আধুনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. ইউনুস বলেন- একজন পরিদর্শককে মাঝে-মধ্যে দেখা যায়। তিনিও অনিয়মিত। আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলে দেখা যায় ডাক্তার নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন- চিকিৎসক পদের জন্য আবেদন হয়, কিন্তু অনেক সময় পদ খালি থাকে কিংবা নিয়োগ হলেও ঠিকমতো আসেন না। দায়িত্বে থাকা পিয়নরাই তখন রোগীদের কিছুটা সহযোগিতা করে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, চিকিৎসক না থাকলে কেন এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু রাখা হচ্ছে? সরকারি বাজেটের অপচয় হচ্ছে কিনা, সেই প্রশ্নও উঠছে। স্বাস্থ্য পরিদর্শক স্নিগ্ধা পাল বলেন, আমি তিন ইউনিয়নে টিকাদান ক্যাম্পেইনের দায়িত্ব পালন করি। পাশাপাশি আধুনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করি। এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাক সেটিও আমি চাই।
একজন এমএলএসএস আছে মাঝে-মধ্যে উনিও ওষুধপত্র দিয়ে থাকেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মু. ইকবাল হোসাইন বলেন-জনবল সংকট রয়েছে, তবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার জন্য স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে পিয়ন দিয়ে চিকিৎসা দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
