সুনামগঞ্জে রোদে ফিরেছে প্রাণ, হাওরে বইছে বৈশাখী ব্যস্ততা

সুনামগঞ্জে রোদে ফিরেছে প্রাণ, হাওরে বইছে বৈশাখী ব্যস্ততা

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার পর গত তিনদিন ধরে আকাশে ঝলমলে রোদ আর হালকা বাতাস থাকায় হাওরাঞ্চলের কৃষক-কৃষাণিদের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি। বৈশাখের চিরচেনা ব্যস্ততায় এখন মুখর হয়ে উঠেছে হাওরপাড়। সড়ক, খলা ও বাড়ির উঠানে ভেজা ধান শুকানো, মাড়াই ও ধান ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক পরিবারের সব বয়সী মানুষ। সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, তাহিরপুর টু সুনামগঞ্জ সড়ক জুড়ে একপাশে রোদে ধান নাড়ছেন কৃষাণিরা, কোথাও বাতাসে ধান উড়িয়ে চিটা আলাদা করছেন কৃষকরা। শুকানো ধান কেউ ট্রাক্টরে, কেউ ঠেলাগাড়িতে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।

একইসঙ্গে হাওরের তীরবর্তী জমি থেকে কাটা ধান এনে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে এবং সেখানেই মেশিন দিয়ে মাড়াই চলছে। কয়েকদিন পর রোদের দেখা মেলায় হাওরে বৈশাখের এই কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দুর্ভোগে পড়া কৃষকদের কাছে এই রোদ যেন স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে। বালিজুড়ি এলাকার কৃষক মশিউর রহমান বলেন- এক সপ্তাহ আগে যদি এমন রোদ থাকতো, তাহলে জলাবদ্ধতার কারণে ধানের এত ক্ষতি ও কষ্ট হতো না। তবে গত তিনদিনের রোদে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। আর এক সপ্তাহ রোদ থাকলে হাওরের ধান ও খড় সহজেই ঘরে তোলা যাবে। তাহিরপুরের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন- জেলার সবচেয়ে বড় হাওর মাটিয়ান ও শনি হাওরের ধানের তেমন ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বৃষ্টির পানির কারণে ধান কাটতে ও শুকাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। কৃষাণি লতিফা বেগম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে রোদ থাকায় হাওরে বৈশাখী আমেজ ফিরে এসেছে।

আমরা এখন ধান শুকিয়ে ঘরে তুলতে পারছি। তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, এবার হাওরে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। রোদ থাকায় কৃষকদের মনে স্বস্তি ফিরেছে। তবে শ্রমিক সংকট ও জলাবদ্ধতার কারণে পাকা ধান কাটতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। আশা করা যায়, আর কয়েকদিন রোদ থাকলে সবাই ধান ঘরে তুলতে পারবেন। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন- বর্তমানে রোদ থাকায় কৃষকদের বেশ উপকার হচ্ছে। বর্তমানে সুরমাসহ জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বৃষ্টি হলে নদী ও হাওরের পানি আবার বাড়তে পারে।

তিনি আরও জানান- এবার সুনামগঞ্জের হাওরে ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্পের আওতায় ৬০২ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টন ধান। এর মধ্যে হাওরের নিচু এলাকায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৫ হেক্টর এবং উঁচু এলাকায় ৫৮ হাজার ২৩৬ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮৩ দশমিক ৮৪৩ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেছেন- আকাশে রোদ থাকায় সবার মধ্যেই স্বস্তি ফিরেছে। এভাবে আর ক’টা দিন থাকলে কৃষকরা বাকি ধান গোলায় তুলতে পারবেন।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন