ইসরাইলি বিমান হামলায় লেবাননের বৈরুতে নিহত বাংলাদেশি নারী শ্রমিক দিপালী বেগমের (৩৪) মরদেহ এক মাস পর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার গ্রামের বাড়ি শালেপুরে এসে পৌঁছেছে। এসময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দিপালীর মরদেহবাহী উড়োজাহাজটি অবতরণ করে। সেখানে আগে থেকেই মরদেহ গ্রহণ করতে পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দিপালীর বাবা শেখ মুকা, ভাই শেখ ওবায়দুল্লাহ ও বোন লাইজু আক্তার।
এসময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উপস্থিত থেকে মরদেহটি পরিবারের সদস্যদের হাতে বুঝিয়ে দেন। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফ্রি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি নিয়ে রাতেই রওনা হন তারা। অ্যাম্বুলেন্সে তারা ঢাকার দোহার উপজেলার মৈনট ঘাট পর্যন্ত আসেন রাত সাড়ে তিনটার দিকে। সেখানে এসে ভোর হওয়ার অপেক্ষা করেন। পরে সেখান থেকে ভোর ছয়টার দিকে ট্রলারে করে রওনা হয়ে পৌঁছান চরভদ্রাসনের আদারচর ঘাটে। সেখান থেকে ঘোড়ার গাড়িতে চরভদ্রাসন উপজেলার পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচর গ্রামের বাড়ির উঠোনে নিয়ে আসা হয় নিথর দেহ। ততক্ষণে সকাল সাড়ে ৭টা। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় চরভদ্রাসন উপজেলার উপজেলার মুন্সীর চর বাজারে জানাজা পর তার নিজ বাড়ির পাশে পারিবরিক জমিতে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
নিহতের পরিবার পক্ষ হতে জানানো হয়-শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে বাড়ির উত্তরপাশে নিজেদের জমিতে সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহ দাফন করা হয়। নিহতের বোন লাইজু আক্তার বলেন-দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বোনের লাশটা শেষবারের মতো দেখতে পারছি এটাই বড় সান্তনা। চর হরিরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির বলেন-দিপালী পরিবারটি একমাত্র আয়ের উৎস ছিল। তার মৃত্যুতে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়লো। প্রবাসী কল্যান সেন্টারের সহকারী পরিচালক বলেন-আমরা প্রবাসীদের নিযে কাজ করি। তাই আমরা অতি দ্রুততার সাথে দিপালীর লাশ তার পরিবারের কাছে দিতে পেরেছি।
চরভদ্রাসন উপজেলার সরকারী কমিশনার (ভুমী) জায়েদ হোসেন বলেন-প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের দিপালীর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করেছে। ভবিষ্যতেও তাদেরকে সহযোগিতা করা হবে। ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী বলেন-দিপালীর পরিবারকে দাফন খরচ বাবদ বিমানবন্দর থেকেই ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তীতে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
উল্লেখ্য, ৮ এপ্রিল মোবাইলে দিপালীর সাথে শেষ কথা হয় বোন লাইজুর। এরপর মোবাইলের লাইন কেটে গেলে অনেক চেষ্টা করেও তার সঙ্গে বার যোগাযোগ করা যায়নি। পরদিন অজ্ঞাত নাম্বার থেকে জানায় তার বোন মারা গেছে।
