পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। গতকাল বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি হলে আয়োজিত এনসিপি’র যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। সেখানে নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও আমরা দেখেছি নির্বাচনের আগে কয়েক লাখ ভোটারের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হয়েছে এবং তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের বড় একটি অংশ ছিল মুসলমান ও মতুয়া সম্প্রদায়ের। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম, মতুয়া, দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে এবং এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে।
এ অবস্থায় বাংলাদেশকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও অপপ্রচার নিয়ে সতর্ক করে এনসিপি’র আহ্বায়ক বলেন, বাংলাদেশবিরোধী ও স্বার্থবিরোধী গোষ্ঠী নানা ধরনের উস্কানি ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর চেষ্টা করবে। আমাদের সচেতন থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা দেখিয়ে দিতে চাই, দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যালঘুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ রাষ্ট্র হবে বাংলাদেশ। এ দেশের হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন ও পুরনো সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ব্যক্তিদ্বন্দ্ব ভুলে এনসিপি’র পতাকাতলে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি বলেন, দেশে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। জুলাই গণহত্যার বিচার ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নে এনসিপিকে সংসদ ও রাজপথ- দুই জায়গাতেই ভূমিকা রাখতে হবে। আন্দোলনে নারীদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে হামের প্রকোপ বেড়েছে। সরকারকে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা দেখতে চাই না, আর একটি শিশুও হামের কারণে মৃত্যুবরণ করুক।
জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিএনপি এখন সংস্কারবিরোধী অবস্থানে চলে গেছে এবং দলটি আওয়ামী লীগের দ্বারা ‘হাইজ্যাক’ হয়েছে। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সারা দেশে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতার এক ‘কালবৈশাখী ঝড়’ বইছে, তখনো চট্টগ্রামে আন্দোলনের বসন্ত ধরে রাখা হয়েছে। এ জন্য তিনি চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। বিএনপি’র বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারে আসার পর সংস্কারবিরোধী অবস্থানে চলে গেছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও চট্টগ্রামের সন্তান ওয়াসিম যে স্বপ্নের জন্য রক্ত দিয়েছে, বিএনপি কেন সেই আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে আসছে? গত ১৭ বছরে বিএনপি’র ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যারা অর্থ, শ্রম ও জেল-জুলুম সহ্য করে দলটিকে টিকিয়ে রেখেছিলেন, তারা এখন বঞ্চিত ও হতাশ। তাদের অনেকেই বর্তমানে এনসিপিতে যোগ দিতে আগ্রহী বলেও দাবি করেন তিনি।
