নেত্রকোণার সেই শিক্ষক ৩ দিনের রিমান্ডে, নিরাপত্তা চেয়ে চিকিৎসকের জিডি

ফন্ট সাইজ:

নেত্রকোণার মদনে এক কওমি মাদ্রাসার ১১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় মামলার প্রধান অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে তিনদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল নেত্রকোণার মদন আমলী আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল হাকিম মোহসিনা ইসলাম এ আদেশ দেন।

গ্রেপ্তার হওয়া আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার হযরত ফাতেমাতুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক। মঙ্গলবার রাত সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে র?্যাব-১৪ তাকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার বিকালে তাকে মদন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একইদিন সন্ধ্যায় আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের জিআরও সোহরাওয়ার্দী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিস্তারিত তথ্য উদ্‌ঘাটনের স্বার্থে আদালত এই আদেশ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা গত ২৩শে এপ্রিল শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ও তার ভাই মামুন মিয়াকে আসামি করে মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষকের লালসার শিকার হয়ে ১১ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাকে নিরাপদ স্থানে রেখে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষার্থীকে চিকিৎসাসেবা দেয়া চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তারকে মোবাইল ফোনে ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হুমকির একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। নিজের নিরাপত্তা চেয়ে মদন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন ডা. সায়মা আক্তার। পরে ভিডিও কলে তার সঙ্গে কথা বলে সাইবার বুলিং ও হত্যার হুমকির বিষয়ে খোঁজখবর নেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর এবং তাকে সাহস জোগান।

ডা. সায়মা আক্তার বলেন, আমি কেন ওই মেয়েটির চিকিৎসা করেছি, সেটিকে কেন্দ্র করে একাধিক নম্বর থেকে আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে থানায় জিডি করেছি। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মেয়েটিকে নিরাপদ স্থানে রেখে সার্বিক চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিতে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন