দীর্ঘ ছয় মাস পর আবারো সাদা পোশাকের অভিজাত ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে আসন্ন রোমাঞ্চকর টেস্ট সিরিজে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী পাকিস্তান। গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিল স্বাগতিকরা। এরপর দেশের ক্রিকেটে বেশ কিছু অনাকাক্সিক্ষত পটপরিবর্তন হয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অপ্রত্যাশিতভাবে খেলতে না যাওয়া এবং বোর্ডে ব্যাপক রদবদলের পর অবশেষে প্রত্যাশিত স্থিতিশীলতা ফিরেছে। মিরপুরে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ পাকিস্তান দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকার মাঠে নামার আগে দারুণ রোমাঞ্চিত দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
পাকিস্তানের মাটিতে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে ঐতিহাসিক জয়ের সুখস্মৃতি এখনও তরতাজা। সেই আত্মবিশ্বাস পুঁজি করে এবার নিজেদের চেনা ডেরায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার নিখুঁত ছক কষছে টাইগাররা। গতকাল গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে টাইগার অধিনায়ক শান্ত বলেন, ‘না, আমার মনে হয় পাকিস্তানের বিপক্ষে লাস্ট সিরিজটা আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছিলাম। সেটা অতীত হয়ে গেছে। বাট হ্যাঁ অবশ্যই ওই সিরিজটা আমাদেরকে বাড়তি একটা কনফিডেন্স দিবে। বাট এই সিরিজে আমাদেরকে আবার ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। প্রত্যেকটা দিন বেটার ক্রিকেট খেলতে হবে। তাহলেই হয়তো রেজাল্ট আমাদের পক্ষে আসবে। বাট রেকর্ড নিয়ে খুব বেশি আমরা চিন্তা করছি না। আমার মনে হয় যে প্রত্যেকটা দিন ভালো ক্রিকেট খেলাটা ইম্পর্ট্যান্ট, প্রত্যেকটা দিন কম্পিটিটিভ ক্রিকেট খেলাটা ইম্পর্ট্যান্ট।’
সাম্প্রতিক সময়ে সাদা বলের ফরম্যাটে পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় পুরো দলকে উজ্জীবিত করেছে। দীর্ঘক্ষণ টেস্টের বাইরে থাকলেও জয়ের ধারা যেকোনো ফরম্যাটেই আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। নির্বাচকরা এবার প্রথম সারির সব ব্যাটারকে নিয়ে শক্তিশালী স্কোয়াড সাজিয়েছেন। সাদা বলের ক্রিকেটে দারুণ ফর্মে থাকা তানজিদ হাসান সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটে দাপট দেখানো অমিত হাসানও স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন। প্রস্তুতি নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট দলীয় অধিনায়ক। রাওয়ালপিন্ডিতে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য সেই জয়ের নেপথ্যে নিখুঁত প্রস্তুতিকেই মূল চাবিকাঠি মানছেন তিনি। এবারও সেই একই ধারায় প্রস্তুতি নিচ্ছে দল। ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগানোর প্রশ্নে শান্ত বলেন, ‘ভালো উইকেট হবে আশা করছি। আপনি যদি এখন আমাদের টিমটা দেখেন আমার মনে হয় যে বোলিং অ্যাটাকটাও এক্সপেরিয়েন্স ব্যাটসম্যান বেশ কয়েকটা ব্যাটসম্যান আছে অনেকদিন ধরে খেলছে এই ফরমেটে। এবং টেস্ট ক্রিকেটে আমার মনে হয় যে স্পেশালি ব্যাটসম্যানগুলো সেটেল আছে বেশ কয়েকটা সিরিজ একসাথে আমরা খেলছি। সো এই এক্সপেরিয়েন্সের দিক দিয়ে আমি বলব যে ভালো একটা দল। সো উইকেটটা যেরকমই থাকুক ভালো পেসার ভালো স্পিনার আমাদের দুই দিকেই আছে। সো আমার মনে হয় যে প্রপার স্পোর্টিং উইকেট থাকলে আমাদের টিমের জন্য ভালো। বাট এগেইন কালকে কি হবে বা এই নেক্সট পাঁচ দিনে কি হবে উইকেটটা এটা আসলে ওয়েদারের ওপর অনেক কিছু ডিপেন্ড করে।
একসময় চরম দুঃসময় পার করেছেন শান্ত। ওয়ানডে অধিনায়কত্ব হারান এবং টেস্টের দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ান। কিন্তু আয়ারল্যান্ড সিরিজ দিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের পর ফের দলের হাল ধরেন তিনি। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এখন নেতৃত্ব দারুণ উপভোগ করছেন তিনি। মাঠে ফিল্ডিং সাজানো বা বোলিং পরিবর্তনের মতো কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো বেশ নিপুণভাবে সামলাচ্ছেন। মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক ও তাইজুল ইসলামের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতি তাঁকে বাড়িয়ে দিয়েছে আত্মবিশ্বাস। যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে এই সিনিয়ররা তাঁকে মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন। আগের পাকিস্তান সফরে মেহেদী হাসান মিরাজের অনবদ্য অলরাউন্ড পারফরম্যান্স বড় ভূমিকা রেখেছিল। সেবার সিরিজসেরা হয়েছিলেন মিরাজ। দলের এই চমৎকার ও দৃঢ় ঐক্যবদ্ধ রূপটাই এবারের লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান শক্তি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রধান অস্ত্র হবে পেস আক্রমণ। তাসকিন আহমেদের কাঁধে থাকবে বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব। তার সঙ্গী দ্রুতগতির নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম ও ইবাদত হোসেন। দারুণ ফর্মে রয়েছেন নাহিদ-শরিফুল। ইবাদত নিজের বোলিংয়ে উন্নতি এনেছেন। করোনার সময় তাসকিনের প্রত্যাবর্তন অন্য পেসারদের তীব্র অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। মোস্তাফিজুর রহমান ও হাসান মাহমুদকে নিয়ে গড়া এই পেস ইউনিট যেকোনো ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখে। তরুণ ও অভিজ্ঞ পেসারদের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। বোলিং জুটির এই দুর্দান্ত উন্নতি দলের সামগ্রিক শক্তির সবচেয়ে বড় প্রমাণ। সাদা বলের চমৎকার ফর্মকে লাল বলের ক্রিকেটে সফলভাবে রূপান্তর করাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।
