উন্মুক্ত ড্রেন যেন মরণফাঁদ

উন্মুক্ত ড্রেন যেন মরণফাঁদ

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের দিরাই পৌর শহরের ব্যস্ততম বাজার এলাকায় উন্নয়নের নামে খুঁড়ে রাখা ড্রেন এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে নির্মাণের নামে ড্রেনটি উন্মুক্ত করে রাখায় একের পর এক ঘটে চলেছে দুর্ঘটনা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে পৌর শহরের রাজাপুর গ্রামের বজলু মিয়া ড্রেন পাড় হতে গিয়ে খাদে পড়ে মাথা ফেটে গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন। কয়েকদিন আগে একইভাবে ড্রেনের জন্য খোঁড়া গর্তে পড়ে পা ভেঙেছেন বলে জানিয়েছেন বিপ্লব শর্মা নামের এক ব্যবসায়ী। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রায় প্রতিদিনই মানুষ এভাবে পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে। এ ছাড়া ড্রেন উন্মুক্ত থাকায় চলাচলের সড়ক সংকুচিত হয়ে যানজট ও পথচারীরা পড়েছেন বিড়ম্বনায়। খোলা ড্রেনের ময়লা-আবর্জনার পচা দুর্গন্ধে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মশার উপদ্রব। গর্তের কারণে দোকানে ক্রেতা আসতে পারছেন না। ফলে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছেন অন্তত অর্ধশতাধিক দোকানি। জানা যায়, স্থানীয় সরকারের এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে দিরাই মূল বাজারে ২৩৫ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণে প্রায় ৬৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কাজটি ৪ঠা জানুয়ারি ২০২৬ শুরু হয়ে ৩রা জুন ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করার কথা। তবে ৪ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনো মূল কাজ শুরুই করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মো. আতিকুর রহমান।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেছেন, উন্নয়নের দোহাই দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ড্রেনটি গর্ত খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। এজন্য কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিকে দায়ী করছেন তারা। কাজের ধীরগতিতে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দিরাই বাজার মহাজন সমিতির সভাপতি নুরুল হক বলেন, তারা মিটিং করে বলেছিল এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ করবে। প্রায় তিন মাস হতে চললো কাজ শুরুই করতে পারেনি। মাঝখান দিয়ে ড্রেন উন্মুক্ত করে দিয়ে মানুষের বারোটা বাজিয়ে রেখেছে। কোষাধ্যক্ষ জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, কর্তৃপক্ষ চাইলে পর্যায়ক্রমে কাজটি করতে পারতো। তা না করে একসঙ্গে দীর্ঘ ড্রেনের সøাব সরিয়ে উন্মুক্ত করে রেখেছে। দিরাই পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মলয় ভট্টাচার্য কাজের ধীরগতির জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিকে দায়ী করছেন। দিরাই পৌরসভার প্রশাসক ও এসিল্যান্ড জিয়াউল ইসলাম সৌরভ বলেন, বর্তমানে ধান কর্তনের মৌসুম। এজন্য শ্রমিক সংকটে কাজটি শুরু করা যাচ্ছে না। তবে শিগগিরই কাজটি সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।



ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন