পশ্চিমবঙ্গে হিংসা মোকাবিলায় কঠোর নির্বাচন কমিশন

রাজ্যে ২০০ এফআইআর, গ্রেপ্তার ৪৩৩

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী অশান্তিতে গত কয়েকদিনে নানা জায়গায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও খুনের মতো ঘটনা ঘটেছে। এমনকি বুলডোজার নিয়েও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ব্যাপক অশান্তি ও হিংসার ঘটনায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়ায় বিজেপি’র নেতৃত্ব কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলীয় কর্মীদের। রাজ্যের নানা জায়গায় ‘সন্ত্রাস’-এর অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে বিজেপিকে। যদিও বিজেপি’র দাবি, তারা কোনোভাবেই কোনো হিংসামূলক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়। রাজনীতির রঙ না দেখে হিংসার ঘটনায় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার কাছে আর্জি জানিয়েছেন বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

নির্বাচন কমিশনও বুধবার সকালে জানিয়েছে, ভোট-পরবর্তী হিংসায় কোনো ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করার নির্দেশ দিলো কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশের ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত এবং সিআরপিএফ-কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অশান্তির ঘটনা ঘটলে, তা দ্রুত পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। কাউকে রেয়াত না-করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে।

বুধবার বিকালে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে কিছু লোক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করেছেন। ইতিমধ্যে তাদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তিনি জানান, গত কয়েক দিনে বিভিন্ন জায়গায় গোলমাল হয়েছে। মঙ্গলবারও হয়েছে। তবে বুধবার সকাল থেকে কোথাও কোনো গোলমালের ঘটনা ঘটেনি। সিদ্ধিনাথ জানান, ভোট-পরবর্তী সময়ে মোট ২০০টি এফআইআর হয়েছে। তার ভিত্তিতে ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে প্রায় ১১০০ জনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, বুলডোজার নিয়ে কাউকে ভয় দেখানোর চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। এর বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এদিন, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহারের বিষয়টি বুধবার ব্যাখ্যা করেন রাজ্যের পুলিশ প্রধান। তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী মমতা এবং অভিষেকের যে নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, তা তারা পাচ্ছেন। তবে এর বাইরেও অতিরিক্ত কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল তাদের জন্য। সেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন