হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরব থেকে ১ লাখ ৩৯৫ টন অপরিশোধিত (ক্রুড) তেল নিয়ে আসা ‘এমটি নিনেমিয়া’ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরের কুতুবদিয়া এলাকায় নোঙর ফেলেছে। গতকাল দুপুরে কুতুবদিয়া চ্যানেলে মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজটি কুতুবদিয়ায় নোঙ্গর করেছে। বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে শুরু হবে ছোট জাহাজে করে তেল খালাস। দুই-একদিনের মধ্যে দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে উৎপাদন শুরু হবে।
যুদ্ধ শুরুর পর এটি দেশে আসা ক্রুড অয়েলের প্রথম চালান। ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার লম্বা বিশাল জাহাজটির কর্ণফুলী নদী হয়ে বন্দরের ডলফিন জেটিতে আসতে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী ছোট ছোট ট্যাংকার জাহাজে খালাস করে (লাইটারিং) নিয়ে আসা হবে। ওই তেল পরিশোধন করা হবে রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ক্রুড অয়েলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ই এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ই এপ্রিল রিফাইনারিটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে পুরো উৎপাদন ব্যবস্থায়।
ইস্টার্ন রিফাইনারির কর্মকর্তারা জানান, ৭ই মে থেকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে রিফাইনারিটি। আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ‘এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে আজ (বুধবার) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রামে এসেছে ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’। আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুত তেল খালাস প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, নিরাপদে পৌঁছানোর পর জাহাজটি বর্তমানে কুতুবদিয়া চ্যানেলে নোঙ্গর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা আছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ পরিশোধন হয় চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে।
সর্বশেষ গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়েছিল। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এরপর অপরিশোধিত তেলের কোনো জাহাজ দেশে আসেনি। এরই মধ্যে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত একটি মাদার ভেসেল সৌদি আরবের রাস তানুয়া বন্দরে আটকা পড়ে। এমটি নর্ডিক পলাঙ নামের জাহাজটি গত ২রা মার্চ চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই সেটিতে তেল লোড করা হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এখনো বন্দরে নোঙ্গর করে আছে।
১লা মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী ধান্না বন্দর থেকে আরেকটি জাহাজ তেল নিয়ে বাংলাদেশে আসার শিডিউল ছিল। সেটিতেও এক লাখ টন তেল আনার কথা ছিল। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেটিরও শিডিউল বাতিল করা হয়। এ অবস্থায় ক্রুড অয়েলের অভাবে পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি।
