সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় এক নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি অন্তর চৌধুরীকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মহব্বত কবির। এর আগে মঙ্গলবার রাতে সাভার পৌরসভার ডগরমোড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষক অন্তর চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ সময় তার সহযোগী মামলার দুই নম্বর আসামি দেলোয়ার হোসেন ওরফে দিলু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারকৃত অন্তর চৌধুরী (২৭) ঢাকা জেলার ধামরাই থানার বাসনা গ্রামের মো. সুজন ও অনিমা দম্পতির ছেলে।
সে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে মিলে প্রতারণা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। জানা যায়, ধর্ষণের শিকার নারীর সঙ্গে অন্তর চৌধুরীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব হওয়ার একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারী জীবিকার তাগিদে বিদেশ যাওয়ার কথা জানালে অন্তর চৌধুরী জানায়, তার মা অনিমা বিদেশে পাঠানোর ব্যাপারে ভুক্তভোগীকে সহযোগিতা করতে পারবে। পরবর্তীতে অন্তর চৌধুরী তার বন্ধু দেলোয়ার হোসেন দিলু এবং মা অনিমাকে নিয়ে রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় ভুক্তভোগীর ভাড়া বাসায় যায়। সেখানে অনিমা ভুক্তভোগীর বাবার সঙ্গে কথা বলে বিদেশ পাঠানোর জন্য ভুক্তভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্টের ফটোকপি নিয়ে চলে আসলেও অন্তর চৌধুরী ও তার বন্ধু দেলোয়ার হোসেন ওরফে দিলু ভুক্তভোগীর বাসায় থেকে যায়। পরবর্তীতে তারা বিদেশ পাঠানোর বিষয়ে সহযোগিতার কথা বলে সুযোগ বুঝে ভুক্তভোগী নারীর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে।
সাভার ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মহব্বত কবির বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে সাভার পৌরসভার ডগরমোড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি অন্তর চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ধর্ষণ মামলার অপর আসামি দেলোয়ার হোসেন দিলু পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া পলাতক আসামি দেলোয়ার হোসেন দিলুকে গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
