প্রকৌশলীদের অনিয়মে ছাড় দেয়া হবে না

আইইবি’র মতবিনিময় সভায় বক্তারা

প্রকৌশলীদের অনিয়মে ছাড় দেয়া হবে না

ফন্ট সাইজ:

দেশের বিভিন্ন প্রকল্পে প্রকৌশলীদের অনিয়ম দেখা গেলে ব্যবস্থা নেবে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (আইইবি) এবং এই বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদেরও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আইইবি’র নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি দুর্নীতি ঠেকাতে প্রকৌশলীদের পক্ষে কিছু দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন আইইবি নেতৃবৃন্দ। গতকাল রাজধানীর রমনার আইইবি সদর দপ্তরে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই দাবি তুলে ধরা হয়। মতবিনিময় সভায় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, নিউজ এডিটর ও প্রধান প্রতিবেদকরা অংশ নেন।

সভায় স্বাগত বক্তব্যে আইইবি’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী এটিএম তানবীর-উল-হাসান (তমাল)। আইইবি’র কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান।

বিভিন্ন প্রকল্প বা সংশ্লিষ্ট কাজে অনিয়ম প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আইইবি’র প্রেসিডেন্ট ও রাজউক’র চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম রিজু বলেন, আপনারা যদি যথাযথ তথ্যগুলো দেন, অথবা পেপার কাটিং যদি পাঠিয়ে দেন, তাহলে আমরা এটাকে একটা টিম করে ভিজিট করে আপনাদের কাছে রিপোর্ট দিয়ে দেবো। তিনি ইঞ্জিনিয়ার নাকি নন-ইঞ্জিনিয়ার, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তিনি দুর্নীতি করছেন, তিনি অন্যায় করছেন। আমরা জাস্টিফাই করবো। কোন কাজ অন্যায় হয়েছে, কি বিধি পরিপন্থি হয়েছে সেটা দেখবো। তবে অনেক সময় খবর শুনি মিডিয়ায় সব তথ্য সবসময় সঠিক থাকে না। আমি আজ কথা দিচ্ছি, এই তথ্যগুলো আমাদের কাছে এলে, যে আমরা একটা টিম করবো, আমাদের একটা উইং থাকবে; এই ধরনের তথ্য যেখানেই আমরা পাবো, আমাদের খরচে আমরা এটা ভিজিট করবো।

মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, বিগত সময়ে নেয়া অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আইইবি’র পক্ষ থেকে একটি টাস্কফোর্স গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রকৌশল খাতকে শক্তিশালী করতে হলে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, সুশাসন নিশ্চিত করাও জরুরি। উন্নয়ন প্রকল্পে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, বেসরকারি প্রকৌশলীদের জন্য একটি জাতীয় পর্যায়ের চাকরিবিধি প্রণয়ন জরুরি। এটি শুধু প্রকৌশলীদের সুরক্ষার জন্য নয়, বরং সামগ্রিকভাবে উৎপাদনশীলতা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের মানোন্নয়নের জন্যও জরুরি।

এ সময় আইইবি’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী খান মনজুর মোরশেদ বলেন, ফুয়েলের জন্য পাওয়ার প্লান্ট রেডি কিন্তু চালু করতে পারছে না। তাহলে এখান থেকে সুন্দরবন দিয়ে গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন ঢাকা থেকে টেনে নিয়ে এটার ফুয়েলিং করবে। এই ফুয়েলের পারমিশন কে দিয়েছিলো? যে প্রকৌশলী হোক, নন-প্রকৌশলী হোক, প্রকল্প পরিচালক হোক, সাবেক সচিব হোক- তাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসুন। তিনি বলেন, মেঘনা ঘাটে যে পাওয়ার প্লান্ট দেয়া হয়েছে ফুয়েল ছাড়াই। তখন পিডিবি’র চেয়ারম্যান বলেছেন- এই এলাকায় ফুয়েল নেই। এরপরও নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি ৮৮০ মেগাওয়াট করছে। এটা কে পারমিশন দিয়েছে? এটার জন্য বছরের পর বছর ভুগতে হবে। তখন চিন্তা করছে ভোলা থেকে গ্যাস নিয়ে পাইপলাইন দিয়ে এটা চালানো হবে। যে দলীও হোক, আপনাদেরকে (সাংবাদিকদের) আমন্ত্রণ করছি- এটা তদন্ত করুন। তদন্ত করে যে দায়ী; ইঞ্জিনিয়ার যদি দায়ী হন, আমি যদি দায়ী হই, ব্যবস্থা নেন। মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড পড়ে মৃত্যুর ঘটনা টেনে তিনি বলেন, তদন্ত করেন যদি ইঞ্জিনিয়ার দায়ী থাকেন তবুও। মেট্রোরেলের মতো এত বড় একটা প্রজেক্ট, এখন পর্যন্ত একটা পিডি (প্রকল্প পরিচালক) ইঞ্জিনিয়ার নাই।

মতবিনিময় সভায় আইইবি’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট (এইচআরডি) প্রকৌশলী শেখ আল আমিন, ভাইস-প্রেসিডেন্ট (এসঅ্যান্ডডব্লিউ) প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া, সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এইচআরডি) প্রকৌশলী মো. নূর আমিন এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এসঅ্যান্ডডব্লিউ) প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ ওসমানী উপস্থিত ছিলেন।



ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন