দুর্জয়-মাশরাফি-সাকিবের ভাগ্য জনগণের হাতে

দুর্জয়-মাশরাফি-সাকিবের ভাগ্য জনগণের হাতে

ফন্ট সাইজ:

মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান ও নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের ভাগ্যে কী আছে! বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাবেক এই তিন অধিনায়ক আবারও ফিরতে পারবেন স্বাভাবিক জীবনে? সাকিব নিরাপত্তা শঙ্কায় দেশে ফেরেননি। এই নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। বাংলাদেশের কোনো সিরিজ এলেই তার ফেরা নিয়ে অনেকেই আশায় বুক বাঁধেন।

অন্যদিকে দেশে থেকেও ক্রিকেটের কোথাও থাকার উপায় নেই মাশরাফি বিন মুর্তজার। আর বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক দুর্জয় এখন কারাগারে। তবে এই দু’জনকে নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা নেই। বারবারই সাকিব নিয়ে প্রশ্ন। যে কারণে বিসিবির সভাপতি ও সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেছেন, ‘শুধু সাকিবের কথা বললে চলবে না, মাশরাফি ও দুর্জয়ের কথাও বলতে হবে।’

তবে কথা বললেই কি হবে! তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার নিশ্চয়তা কে দেবে? তাদের ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ নিয়ে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল খসরু বলেছেন, রাজনীতি কোনো অপরাধ না।

দেশের নাগরিক হিসেবে এই ক্রিকেটারদেরও অধিকার আছে দেশে স্বাধীনভাবে চলার। তবে যে জনগণ তাদের তিরস্কার করেছে, তাদেরই হাতে এই ক্রিকেটারদের ভাগ্য বলে মনে করেন বিসিবির এ পরিচালক। ইসরাফিল খসরু বলেন, ‘সাকিব এবং মাশরাফি বাংলাদেশ ক্রিকেটের লিজেন্ড, তাদের কাঁধে ভর করে ক্রিকেট অনেক দূর এসেছে। তবে জনরোষের কারণে তাদের ফেরা এখন কঠিন।

সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছেন তারা। ক্রিকেটীয় পরিচয়ের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দেশের আপামর জনতা তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। দীর্ঘদিন ধরে তারা জাতীয় দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। তাদের অভাব পূরণ করাটা বেশ কঠিন কাজ। এখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তেমন কিছুই করার নেই।’

ক্রিকেটার হিসেবে দুর্জয়-মাশরাফি-সাকিবদের অবদান অনস্বীকার্য। দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অবদান রেখেছেন। ঘরোয়া লীগ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আঙিনায় তাদের কীর্তি আকাশচুম্বী। তবে রাজনীতির মাঠে নামার পর থেকে প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিয়েছে। এই প্রসঙ্গে ইসরাফিল খসরু বলেন, ‘মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এখন বদলে গেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

রাজনীতিতে যোগ দেয়ার কারণেই মূলত আজ তাদের এই পরিণতি। খসরু বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘তারা যখন একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হলেন, মানুষ তখন তাদের সেভাবেই মূল্যায়ন করছে। একজন খেলোয়াড়কে শুধুমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে মূল্যায়ন করাই সবচেয়ে ভালো। কিন্তু বর্তমানে দেশের আপামর জনসাধারণ তাদের ক্রিকেটীয় অর্জন দিয়ে বিচার করছে না। বরং তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ই সাধারণ মানুষের কাছে মুখ্য হয়ে উঠেছে এটা অস্বীকার করার কিছু নেই।’

অন্যদিকে নিরাপত্তা পেলে সাকিব দেশে ফিরতে চান বলে জানিয়েছেন। মাশরাফিও হয়তো ঠিক একই কারণে আড়ালে আছেন। এই বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে চলছে তুমুল আলোচনা। একজন নাগরিক হিসেবে তাদের নিরাপত্তা পাওয়া উচিত। ইসরাফিল খসরু এ বিষয়ে বলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে সাকিব হয়তো দ্রুতই মাঠে ফিরতে পারবে।’ তবে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ বিরাজ করছে, তার পেছনে মূলত রাজনৈতিক কারণই দায়ী। এখানে আসলে কারও ব্যক্তিগতভাবে কিছু করার নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ইসরাফিল খসরু এই দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, ‘ক্রিকেটার হিসেবে মানুষের তাদের প্রতি যে ধারণা, রাজনীতিক হিসেবে মূল্যায়নটা তার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।’ বাংলাদেশের সব সাধারণ নাগরিকের স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে। এখন মানুষের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অবাধ সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা আগে ছিল না। তাই সাধারণ মানুষের মতামতকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

ক্ষোভের জায়গাগুলো আমলে নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের কথাই সমাজে থাকবে। সবাইকে কথা বলার সমান অধিকার দেওয়া জরুরি। এই প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ইসরাফিল বলেন, ‘বোর্ডের সঙ্গে আমার একটি পরিষ্কার ভিশন নিয়ে আলাপ হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটটি দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে, তাই সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আমলে নিতে হবে।’

not interested

১ মাস আগে

Not only politics...Shakib and Durjoy were rampant corrupt as well...

হারুন আল রশিদ

১ মাস আগে

এটাকে রুপকভাবে বলে নক্ষত্রের পতন। এরা যখন স্বৈরাচারের সহযোগী হলেন তখনই এদের নিকট ক্রিকেট ছিল গৌন আর রাজনীতি ছিল মূখ্য। সুতরাং এখন ক্রিকেটকে উপলক্ষ করে রাজনৈতিক পূর্নবাসন এদের রাজনৈতিক অভিলাশকে সমীহ করার শামিল হবে। ভুল স্বীকারে এদের মধ্যে লক্ষনিয়ভাবে একটা অনিহা কাজ করে। এক জন জেলে--অন্যরা মুক্ত থেকে পূরানো ক্ষমতা ফিরে পাবার আকাংখায় বিভোর থাকলে--পূর্নবাসন 'দূর আস্ত।

মন্তব্য করুন