কেইপিজেডে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পুলিশের ওপর হামলা, আহত ৩

কেইপিজেডে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পুলিশের ওপর হামলা, আহত ৩

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামে কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) এলাকায় গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ, পুলিশের ওপর হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কর্ণফুলী উপজেলার কেইপিজেডের দক্ষিণ গেট এলাকায় এ সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সন্ধ্যার দিকে একদল লোক হঠাৎ করে কেইপিজেড এলাকায় প্রবেশ করে নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আত্মরক্ষার্থে নিরাপত্তাকর্মীরাও প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে, গত ৩০শে এপ্রিল কর্ণফুলীর দৌলতপুর এলাকায় কেইপিজেডের অধিগ্রহণকৃত জমিতে সংঘবদ্ধভাবে প্রবেশ করে একটি চক্র প্রায় ১৫টি মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। এ সময় বাধা দিলে নিরাপত্তা বিভাগের গার্ড কমান্ডার তোবারক আলীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় সিকিউরিটি ইনচার্জ সৈয়দ মো. এবাদুর রহমান বাদী হয়ে কর্ণফুলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সালাউদ্দিনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। সোমবার বিকালে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ গোলাম নবীর নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় আসামিপক্ষের স্বজনদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একদল দুষ্কৃতকারী লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ গোলাম নবী জানান, ‘আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। গতকাল অভিযানের সময় কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। পরে অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

শিল্প পুলিশের এএসআই বাহার উদ্দিন জানান, গাছ কাটা চক্রটির নেতৃত্বে স্থানীয় সালাউদ্দিন রয়েছে এবং এর আগেও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেইপিজেডের সহকারী উপ-মহাব্যবস্থাপক মুশফিকুর রহমান বলেন, গাছ কাটায় বাধা দেয়ায় আগেও নিরাপত্তাকর্মীর ওপর হামলা হয়েছে। মামলা করার পর আসামিদের ধরতে গিয়ে পুলিশ নতুন করে হামলার মুখে পড়ে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্ণফুলী জোনের সহকারী কমিশনার জামাল উদ্দিন চৌধুরী জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন