বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ী থেকে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর নয়ানগর ও বাড্ডার আফতাব নগর এলাকায় পৃথক ঘটনায় দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন- মোহাম্মদ শাফায়েত হোসেন (১৬) ও মোহাম্মদ আরিফ (২৬)। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা খবর পেয়ে সকাল ৯টার দিকে যাত্রাবাড়ীর ভাঙ্গা প্রেস নয়ানগর এলাকার একটি টিনশেডের বাসা থেকে শাফায়েত নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি টিনশেড বাসা জানালার গ্রিলের সঙ্গে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

নিহত শাফায়েতের মামা মো. মিলন বলেন, আমার ভাগিনা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে টিকটকের এক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক হয়ে যায়। গতরাতে ওই মেয়ে ফোনে তাকে বলে, তোমার সঙ্গে আমার সম্পর্ক শেষ। এই কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে সে বাসায় গলায় ফাঁস দিয়েছে। শাফায়েতের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বড় চাঁদপুর গ্রামে। সে শাহ আলম মিয়ার ছেলে। বর্তমানে যাত্রাবাড়ীর ভাঙ্গা প্রেস নয়ানগর এলাকার সাখাওয়াতের টিনশেড বাসায় ভাড়া থাকতেন।

অপরদিকে, বাড্ডা আফতাব নগর এলাকার একটি বাসা থেকে আরিফ (২৬) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, আমরা খবর পেয়ে বাড্ডার আফতাব নগরের একটি নির্মাণাধীন ভবনে কলামের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় ভোর ৬টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, আমরা পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি আরিফ শ্রমিকের কাজ করতেন। মাদক ও জুয়ার টাকার জন্য বিভিন্ন সময় তার স্ত্রীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করতো। পারিবারিক কলহের জেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানতে পারি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

নিহতের আত্মীয় শম্পা বলেন, আরিফের সঙ্গে তন্বী নামের এক মেয়ের বিয়ে হয় বছর খানেক আগে। বিয়ের পর থেকে নেশার টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে শ^শুরবাড়ি থেকে তাকে টাকা দেয়া হয়। কিছুদিন পূর্বে মোবাইল কেনার জন্য শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা নেয়, জুয়া খেলে সেটাও খোয়া যায়। পরে আবার মোবাইল কেনার জন্য তার স্ত্রীকে চাপ প্রয়োগ করলে স্ত্রীর সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আরিফ গ্রামের বাড়িতে চলে যায়, তার কিছুদিন পরে এসে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় কাজের জন্য চেষ্টা করলে চাকরি না পেয়ে রাতে ওই নির্মাণাধীন ভবনে এসে কলামের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। আরিফের গ্রামের বাড়ি ভোলা সদরে। সে ভুট্টো মাঝির ছেলে। বর্তমানে বাড্ডা আফতাব নগর এক নম্বর রোডে একটি নির্মাণাধীন ভবনে থাকেন।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন