ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল)-এর প্রায় ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে আরও সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে এসব সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসাইন জানান, সাক্ষ্য দেওয়া সাতজনের মধ্যে পাঁচজন ইউসিবিএল ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং দু’জন আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা। এদিন তাদের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে মামলায় মোট ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৫শে মে দিন ধার্য করেছেন।
এর আগে, গত ১০ই এপ্রিল ১০ জন সাক্ষ্য দেন। আর ৫ই এপ্রিল মামলার বাদী ও দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। গত ১১ই মার্চ এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান গত ৫ই জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় জাবেদ ছাড়াও তার স্ত্রী রুকমিলা জামান, ছোট ভাই আসিফুজ্জামান, বোন রোকসানা জামান এবং ইউসিবিএল ও আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ মোট ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে, গত বছরের ২৪শে জুলাই জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্তকালে নতুন করে আরও সাতজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদেরও আসামি করা হয়। তবে আসামিদের মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল আওয়াল ও জাবেদের প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কাজী মো. দিলদার মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের প্রোটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যবসায়ী পরিচয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’- নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০১৯ সালের ১৩ই অক্টোবর চট্টগ্রামের ইউসিবিএল পোর্ট শাখায় একটি হিসাব খোলা হয়।
পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি গম, হলুদ, ছোলা ও মটর আমদানির কথা উল্লেখ করে ১৮০ দিনের জন্য একটি টাইম লোন নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এই ঋণ অনুমোদন করে। ঋণের অর্থ পরে আলফা ট্রেডার্স, ক্লাসিক ট্রেডার্স, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামে চারটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।
এরপর সেসব অর্থ নগদ উত্তোলন ও বিভিন্ন মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়। দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, এই অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পদ ক্রয় এবং জাবেদের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে সমন্বয় করা হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালের ১৩ই অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা সংঘটিত হয়।
