জামালপুরের মেলান্দহে কুলিয়া ইউনিয়নের বল্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু খাদ্য নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত স্কুল ফিডিং (টিফিন) কর্মসূচির খাবার বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতি করছেন। একইসঙ্গে স্কুল উন্নয়নের জন্য প্রাপ্ত সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, বল্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্বাস আলী নয়ন স্কুল ফিডিং (টিফিন) কর্মসূচির খাবার বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় সাংবাদিকরা ব্যাগের ভেতরে কি আছে জানতে চাইলে তিনি ব্যাগ রেখে দৌড় দেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ব্যাগে বিস্কুট ও পুরি দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন স্কুল ফিডিং (টিফিন) কর্মসূচির খাবার বেশি হয়। স্কুল ছুটির পর শিক্ষকরা ব্যাগ ভর্তি করে বাড়িতে নিয়ে যান। শিক্ষার্থীদের দিয়ে ওয়াশরুম পরিষ্কার, ছুটির ঘণ্টা, ক্লাস পরিবর্তনের ঘণ্টাও দেওয়ান শিক্ষকরা।
অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সময় উপকরণ নষ্ট হলে সেটারও জরিমানা গ্রহণ করেন। নাজমুল হোসেন নামে এক স্থানীয় জানান, প্রতিদিন স্কুল ফিডিং (টিফিন) কর্মসূচির খাবার বেশি হয়। স্কুল ছুটির পর সে খাবারগুলো প্রধান শিক্ষক আব্বাস আলী নয়নসহ অন্য শিক্ষকরা ভাগ করে নেন। বিদ্যালয়ের উন্নয়নের টাকা কাজে ব্যবহার না করে নয়ছয় করে নিজেদের পকেট ভরে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, খেলার সময় খেলার সামগ্রী নষ্ট হলে তার জন্য ছাত্রদের জরিমানা দিতে হয়। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের জমিদাতা ও পৃষ্ঠপোষক আলহাজ আব্দুস সালাম বলেন, ধান শুকানোর সুবিধার্থে বিদ্যালয়টির মাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্কুল ফিডিং (টিফিন) কর্মসূচির খাবার বিতরণে যে অভিযোগ উঠেছে তা সত্য। প্রতিদিন কিছু খাবার বেশি হয়। এ খাবারগুলো শিক্ষকরা ভাগ করে নিয়ে যান। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আব্বাস আলী নয়ন বলেন, প্রতিদিন কিছু টিফিন বেশি হয় এই টিফিনগুলো আমরা নেই। এ রকম কাজ আর হবে না। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তসহ দুর্নীদিবাজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এলাকাবাসী।
