মৌলভীবাজারে ক্যামেলিয়া হাসপাতাল চালুর দাবি চা শ্রমিক সংঘের

মৌলভীবাজারে ক্যামেলিয়া হাসপাতাল চালুর দাবি চা শ্রমিক সংঘের

ফন্ট সাইজ:

মৌলভীবাজারের শমসেরনগর এলাকায় চা শ্রমিকদের অন্যতম চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র ক্যামেলিয়া হাসপাতাল চালুর দাবি জানিয়েছে চা শ্রমিক সংঘ। দীর্ঘদিন থেকে ডানকান ব্রাদার্সের পরিচালনাধীন ১৫টি চা বাগানের লক্ষাধিক চা জনগোষ্ঠীর জনসাধারণ চিকিৎসা সুবিধা বঞ্চিত করে ক্যামেলিয়া হাসপাতালে চা শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখায় চা শ্রমিকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত হাসপাতাল চালুর দাবি জানান। সোমবার রাতে শমসেরনগরস্থ চা শ্রমিক সংঘের কার্যালয়ে চা শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভা থেকে এই দাবি জানানো হয়। সংগঠনের জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্যামল অলমিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস।

চা শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ণ হাজরার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক লক্ষ্মীমণি বাক্তি, দপ্তর সম্পাদক রাম নারায়ণ গৌড়, প্রচার সম্পাদক কাজল হাজরা, শত্রুঘ্ন লোহার, সত্যনারায়ণ নাইড়, সবুজ বাউরী, শেফালী র‌্যালী, নিয়তি বাউরী প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন দেশের চা উৎপাদনকারী শীর্ষ কোম্পানি ডানকান ব্রাদার্সের পরিচালনাধীন ১৫টি চা বাগানের শ্রমিক-কর্মচারী ও তার পরিবারের প্রায় লক্ষাধিক জনগণের চিকিৎসার জন্য যে ন্যূনতম সুযোগ ছিল তাও গত ৩৭ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ২৭শে মার্চ একজন চা শ্রমিক সন্তানের মৃত্যুতে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিন থেকে ‘ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল’-এর চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেয়া হয়।

২৬শে মার্চ রাতে শমসেরনগর চা বাগানের বাবুল বরিদাসের ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৩ বছরের স্কুলছাত্রী ঐশী রবিদাস মাথা ব্যথ্যা নিয়ে ক্যামেলিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরদিন সকালে ঐশী রবিদাসের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা হাসপাতালের ডাক্তারসহ স্টাফদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার অজুহাতে চা শ্রমিকদের জিম্মি করে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেন। হাসপাতাল বন্ধ থাকায় চিকিৎসার অভাবে অনেক চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে বড় বড় হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসকদের অনভিপ্রেত ঘটনা প্রায়শঃই সংবাদে মাধ্যমে প্রকাশ হয়। আবার সেটা অল্প সময়ের মধ্যে সমাধানও হয়।

কিন্তু শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবাকে জিম্মি করে এভাবে হাসপাতাল বন্ধ রাখার ঘটনা নজিরবিহীন। দৈনিক মাত্র ১৮৭.৪৩ টাকা মজুরিতে চা শ্রমিকদের ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ অবস্থা, তার ওপর ন্যূনতম যে চিকিৎসা ক্যামেলিয়া হাসপাতালে পাওয়া যেত তাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নেতৃবৃন্দ ২০১৮ সালে বিবিএস ও ইউনিসেফের যৌথ পরিচালনায় জরিপের তথ্য তুলে বলেন চা বাগানের ৭৪ শতাংশ পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। অপুষ্টির কারণে ৪৫ শতাংশ শিশু খর্বকায়। ২৭ শতাংশ শিশু শীর্ণকায়। ৪৭.৫ শতাংশ শিশু কম ওজনের।

১৮ বছরের নিচে কিশোরী বিয়ে হার ৪৬ শতাংশ। মা হওয়ার হার ২২ শতাংশ। ন্যূনতম স্যানিটেশন সুবিধার বাইরে ৬৭ শতাংশ শ্রমিক পরিবার। চরম দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত মৌলিক অধিকার বঞ্চিত চা শ্রমিকদের চিকিৎসা সুবিধা বঞ্চিত রাখা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। ক্যামেলিয়া হাসপাতাল চালু, ঐশী ররিদাসের মৃত্যুর ঘটনায় যথাযথ তদন্তসহ ৪ দফা দাবিতে ১৩ই এপ্রিল মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। কিন্তু তারপর টালবাহনা করে অদ্যাবধি শ্রমিকদের চিকিৎসার মৌলিক অধিকার খর্ব করে হাসপাতাল বন্ধ রাখা হয়েছে। এমতাবস্থায় আগামী ১৫ই মে’র মধ্যে হাসপাতাল চালু না করা হলে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন