চোরাই কাপড় যুবদল নেতার গোডাউনে মজুদ, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা গ্রেপ্তার

চোরাই কাপড় যুবদল নেতার গোডাউনে মজুদ, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নুরুল হুদার মালিকানাধীন একটি গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাইকৃত গার্মেন্টস কাপড় উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দ পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় চরবাটা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত কাপড়ের আনুমানিক মূল্য ৬০-৭০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। চোরাই কাপড় উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন রাজু। তিনি জানান, সোমবার দুপুরে সুবর্ণচরের চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ ভূঞারহাট বাজার এবং হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নের বয়ারচরের আজিম নগর টিনের মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব কাপড় উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪শে এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলম্বিয়া অ্যাপারেলস লিমিটেড কৃর্তক আমদানিকৃত ১৬৩টি বিভিন্ন সাইজের কাপড়ের বান্ডিল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে একটি কাভার্ডভ্যানে লোড করা হয়। পরে কাপড়গুলো গাজীপুর চৌরাস্তা নিয়ে যাওয়ার জন্য হালিশহরের আব্বাস পাড়ার টোল এলাকার চিটাগাং ফিলিং স্টেশনে রাখা হয়। ২৫শে এপ্রিল দিবাগত রাত ৩টার দিকে কাপড় ভর্তি কাভার্ডভ্যান গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় না গিয়ে চালকের সহায়তায় আসামীরা আত্মসাৎ করে। পরবর্তীতে কাভার্ডভ্যান চালক হাতিয়ার হরণী ইউনিয়নের বাসিন্দা সুমন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বাশার চক্র গাড়িসহ কাপড়গুলো নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে বাশারের বন্ধু হরণী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও হাতিয়া উত্তর শাখা তাঁতীদলের সদস্য সচিব ইব্রাহীম খলিলের যোগসাজশে কাপড়গুলো দুই ভাগে ভাগ করা হয়।

পরে কাপড়ের একাংশ হরণী ইউনিয়নের বয়ারচরের আজিমনগর টিনের মসজিদ এলাকার একটি ঘরে এবং অন্য অংশ সুবর্ণচরের চরমজিদ ভূঞারহাট বাজারে সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নুরুল হুদার গোডাউনে সংরক্ষণ করে। এ ঘটনায় গত ২৭শে এপ্রিল চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার সূত্র ধরে চট্টগ্রাম ডিবি পুলিশের একটি দল নোয়াখালীর হাতিয়া ও সুবর্ণচরে অভিযান চালায়। অভিযানে চোরাইকৃত কাপড়সহ আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতি নেতৃবৃন্দের সম্পৃক্ততা না থাকলে এই কাপড় এভাবে এনে সংরক্ষণ করা সম্ভব হতো না। তবে এই চক্রের বেশ কয়েকজন এখনো ধরা ছোয়ার বাহিরে রয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা ছাড়া এত বড় পরিমাণ কাপড় এভাবে পরিবহন ও সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। তাদের দাবি, এই চক্রে আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকলেও এখনও অনেকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হরণী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। রাজনৈতিক কারণে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি নিজে কাপড় উদ্ধারে সহায়তা করেছি। অন্যদিকে, হাতিয়া উত্তর শাখা তাঁতী দলের সদস্য সচিব ইব্রাহীম খলিল জানান, কাভার্ডভ্যান চালক সুমন আমার বাড়ির পাশের।

তাই তার অনুরোধে তিনি একটি ঘর ভাড়া দিতে বাশারকে অনুরোধ করে সহায়তা করেন। তবে সেখানে চোরাই কাপড় রাখা হয়েছিল এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেন। সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নুরুল হুদা বলেন, ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি ঘরটি ভাড়া দিয়েছি। ভাড়াটিয়া কী করছে, তা সবসময় মালিকের জানা সম্ভব নয়। ডিবির এসআই মহি উদ্দিন রাজু মানবজমিনকে বলেন, উদ্ধার হওয়া কাপড়ের মূল্য আনুমানিক ৬০ লাখ টাকা। অভিযানে চরমজিদ ভূঞারহাট বাজার থেকে ৯৬টি ও হরণী ইউনিয়ন থেকে ৬৭টি কাপড়ের বান্ডিল উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের মতে, চরমজিদ ভূঞারহাট বাজারের গোডাউনটি নুরুল হুদার মালিকানাধীন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় বাশারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন