‘জুলাই আন্দোলনকারীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর ষড়যন্ত্র চলছে ’

‘জুলাই আন্দোলনকারীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর ষড়যন্ত্র চলছে ’

ফন্ট সাইজ:

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, জুলাই আন্দোলনকারীদের আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনসভায় ঘোষণা দিয়েছেন জুলাই সনদ তার সরকার অক্ষরে-অক্ষরে পালন করবে! তাহলে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ কেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা নিচ্ছে না। তিনি বলেন, যখন সংসদের মতো পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচন না হয় এজন্য তারা জুলাই সনদে আপোষ করে স্বাক্ষর দিয়েছে তখন বুঝার বাকি থাকে না সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে না। বরং তারা জুলাই আন্দোলনকে অস্বীকার করে নতুন করে আবারও ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করছে।

সোমবার বাউফলে জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, আপনারা আমাকে এমপির খোটা দেবেন না; এমপির চেয়ে আমার কাছে অনেক বড় মর্যাদা হচ্ছে আমি আমার চতুর্থ সন্তানকে শহীদ হিসেবে পেয়েছি। দেশের জন্য তিনি (আমার চতুর্থ সন্তান) আল্লাহর কাছে শহীদ হয়েছেন। তাকে খিলগাঁওয়ে দাফন করা হয়েছে। কিন্তু আমার সন্তানের কবরটি আইডেন্টিফাই করতে দেয়া হয়নি। আমাকে জানাজা পড়তে দেওয়া হয়নি। ঠিক আজকে জুলাইয়ের অনেক শহীদ আছেন, যাদের কবর কোথায় আমরা জানি না। একইভাবে আমি আমার সন্তানের কবর কোথায়, তা-ও জানি না। তিনি আরও বলেন, আমার শহীদ সন্তানের ছবি ছিল আমার স্ত্রীর ফোনে। সেই ফোনটি ভেঙে ফেলেছে আওয়ামী স্বৈরাচাররা। তখন তারা বলেছিল, আবেগে দেশ চলে না। এখনো কেউ কেউ বলে, আবেগে দেশ চলে না। আরে ভাই, আবেগের কারণেই আমরা ১৬ জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত নতুন বাংলাদেশকে বিনির্মাণ করতে পেরেছি।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আমি সংসদে প্রথমে ৭ মিনিট কথা বলার সুযোগ পেয়েছি, পরে ৯ মিনিট কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। এই দুইবার মোট ১৬ মিনিটে প্রত্যেকটি মিনিট, প্রত্যেকটি সেকেন্ড আমি জুলাই শহীদদের এবং গণভোট বাস্তবায়ন নিয়ে সংসদে কথা বলেছি।

জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কি হবে এমপি দিয়ে? আমার মতো এক লাখ লোককে আপনি সংসদে পাঠিয়েও সিস্টেমের পরিবর্তন করতে পারবেন না। জুলাই আন্দোলনকারীরা সিস্টেম পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছে, কিন্তু সেই সিস্টেম পরিবর্তন হয়নি। পরিবর্তন হবে কেবলমাত্র গণভোট বাস্তবায়নের মাধ্যমে।

বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান, বাউফল উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি আরিফুর রহমান এবং সেক্রেটারি মো. আব্দুল্লাহ, জুলাই যোদ্ধা ফাতেমা জামান সামিয়া, তুহিন ফরাজি, উপজেলা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক মো. রুহুল আমিন, জুলাই শহীদ সাংবাদিক মেহেদী হাসানের বাবা মোশারেরফ হোসাইন প্রমুখ।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন