জঙ্গল সলিমপুরে বদলের হাওয়া, স্বস্তি ফিরছে জনপদে

জঙ্গল সলিমপুরে বদলের হাওয়া, স্বস্তি ফিরছে জনপদে

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর। একসময় যা ছিল দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস, পাহাড় কাটা ও অবৈধ জমি বাণিজ্যের অভয়ারণ্য- সেই এলাকায় এখন দৃশ্যমান পরিবর্তনের আভাস মিলছে। আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিনুল ইসলাম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ওসি মহিনুল ইসলাম জঙ্গল সলিমপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বিশেষ করে র‌্যাব কর্মকর্তাকে হত্যার বহুল আলোচিত মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে পুলিশি তৎপরতা নতুন মাত্রা পায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে এবং কুখ্যাত দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যদের ধরতে দিনরাত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসব অভিযানের ফলে এলাকায় সন্ত্রাসীদের দাপট অনেকটাই কমে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর ছিল একটি ‘অঘোষিত নিয়ন্ত্রিত এলাকা’, যেখানে প্রভাবশালী সন্ত্রাসী চক্রের বাইরে সাধারণ মানুষের বসবাস ও চলাচল ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা এই বিশাল বসতিতে অবৈধ জমি বেচাকেনা, দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১৯শে জানুয়ারি র‌্যাবের অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় উপ-সহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এই ঘটনা দেশ জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালানো হলেও স্থানীয়দের মধ্যে ভীতির পরিবেশ পুরোপুরি কাটেনি। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়ে ওসি মহিনুল ইসলাম মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি বাড়ান। নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে অপরাধী চক্রের কার্যক্রম অনেকটাই ভেঙে পড়েছে বলে দাবি পুলিশের। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিকের পথে।

স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। এলাকাবাসী জানান, আগের মতো প্রকাশ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এখন আর চোখে পড়ে না। পুলিশের উপস্থিতি বাড়ায় আমরা এখন অনেকটাই স্বস্তিতে আছি। তবে তারা এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকাটিতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার এবং পুনর্বাসনমূলক উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জঙ্গল সলিমপুর ধীরে ধীরে একটি স্বাভাবিক ও নিরাপদ জনপদে রূপ নেবে। ওসি মহিনুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই এলাকাটিকে সন্ত্রাসমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছি। ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। যে দুই গ্রুপের নেতৃত্বে এখানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম গড়ে উঠেছিল, তাদের মূলহোতাদের গ্রেপ্তারে প্রতিদিন অভিযান চলছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন