সোনাইমুড়ীতে বিতর্কিত ব্রিজ নির্মাণকাজ চলছেই

অনুমতি অস্থায়ী, নির্মাণ স্থায়ী

সোনাইমুড়ীতে বিতর্কিত ব্রিজ নির্মাণকাজ চলছেই

ফন্ট সাইজ:

নোয়াখালী-কুমিল্লা মহাসড়কের সোনাইমুড়ী উপজেলার চৌরাস্তা জোড়পোল এলাকায় চারটি খালের সংযোগস্থলে বাঁধ দিয়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি ব্রিজ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। জেলা পরিষদের অস্থায়ী অনুমতি নিয়ে সেখানে স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরজমিন দেখা যায়, মহাসড়কের গাইড পোস্ট ভেঙে খালের ভেতরে নির্মাণকাজ চলছে। এতে একদিকে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে মাটি ধসে সড়কের স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বরে একই স্থানে ব্রিজ নির্মাণের চেষ্টা হলে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীন আল জান্নাত অভিযান চালিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং নির্মাণসামগ্রী জব্দ করে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ। তবে তার বদলির পরদিন থেকেই আবার কাজ শুরু হয়। জেলা পরিষদের গোপনীয় সহকারী মো. নুর উদ্দিন জানান, ব্রিজ নির্মাণের আবেদনের সঙ্গে কোনো নকশা জমা দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, অস্থায়ীভাবে চলাচলের জন্য বাঁশ বা কাঠের সাঁকোর মতো কাঠামোর অনুমতি দেয়া হয়েছে, পাকা নির্মাণের নয়। জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ অনুযায়ী অস্থায়ী স্থাপনা সহজে অপসারণযোগ্য হতে হয়। কিন্তু বাস্তবে সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা পরিষদ সূত্রে আরও জানা যায়, রাজনৈতিক তদবিরে এ অনুমতি দেয়া হয়েছে, যদিও প্রশাসক বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ন রশিদ বলেন, পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এমন কোনো নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয় না। অস্থায়ী অনুমতির অপব্যবহার হলে তা বন্ধ করা হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, গাইড পোস্ট ভেঙে মহাসড়কের পাশে ব্রিজ নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। ১৯২৫ সালের হাইওয়েজ অ্যাক্ট অনুযায়ী, সওজের অধিগ্রহণকৃত জমিতে অনুমতি ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে নির্মাণকারীরা এ ক্ষেত্রে কোনো অনুমতি নেয়নি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন