যুক্তরাষ্ট্র-তেহরান খুবই ইতিবাচক আলোচনা, আটকে পড়া জাহাজ উদ্ধারের উদ্যোগ, ইরানের হুঁশিয়াারি

যুক্তরাষ্ট্র-তেহরান খুবই ইতিবাচক আলোচনা, আটকে পড়া জাহাজ উদ্ধারের উদ্যোগ, ইরানের হুঁশিয়াারি

ফন্ট সাইজ:

ইরানের সঙ্গে খুবই ইতিবাচক আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে বের করে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তেহরান জানায়, তারা পাকিস্তানের মাধ্যমে দেয়া ১৪ দফা প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পেয়েছে। তেহরান সেই জবাব পর্যালোচনা করছে। ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, আমি সম্পূর্ণভাবে অবগত যে আমার প্রতিনিধিরা ইরান নামের দেশের সঙ্গে খুবই ইতিবাচক আলোচনা করছে। এই আলোচনা সবার জন্য ইতিবাচক কিছুতে পরিণত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, যাদের বেশিরভাগই দৃশ্যমান ও সহিংস মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জড়িত নয়, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছে, যেন হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা তাদের জাহাজগুলোকে বের করে আনতে সাহায্য করা হয়। তিনি বলেন, ইরান, মধ্যপ্রাচ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আমরা এসব দেশকে জানিয়েছি, আমরা তাদের জাহাজগুলোকে নিরাপদে এই সীমাবদ্ধ জলপথ থেকে বের করে আনব, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমার প্রতিনিধিদের বলেছি, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন তাদের জাহাজ ও নাবিকরা নিরাপদে হরমুজ প্রণালি থেকে বের হতে পারে। তারা জানিয়েছে, এলাকা নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত তারা ফিরে আসবে না।

ট্রাম্প ঘোষণা করেন, এই প্রক্রিয়া ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে মধ্যপ্রাচ্য সময় সোমবার সকাল থেকে শুরু হবে। তিনি বলেন, জাহাজ চলাচল শুধু মানুষ, কোম্পানি ও দেশগুলোর জন্য, যারা কোনো ভুল করেনি, তাদের মুক্ত করার জন্য। তারা পরিস্থিতির শিকার। এটি যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এবং বিশেষ করে ইরানের পক্ষ থেকে একটি মানবিক উদ্যোগ। তিনি আরও বলেন, অনেক জাহাজে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কমে যাচ্ছে। এই মানবিক উদ্যোগ সবার সদিচ্ছা প্রদর্শনে সহায়ক হবে। তবে কেউ যদি এতে বাধা দেয়, সেই বাধা শক্তভাবে মোকাবিলা করা হবে।

৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা অচলাবস্থায়। এ পর্যন্ত ইসলামাবাদে মাত্র এক দফা সরাসরি শান্তি আলোচনা হয়েছে। পরে ইরান ১৪ দফা প্রস্তাব দেয়ার পর ট্রাম্প প্রথমে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি শিগগিরই ইরানের পাঠানো প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করব। তবে মনে হয় না এটি গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ তারা গত ৪৭ বছরে মানবতা ও বিশ্বের বিরুদ্ধে যা করেছে, তার জন্য যথেষ্ট মূল্য দেয়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এই প্রস্তাবে এক মাসের মধ্যে চুক্তি করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া, মার্কিন নৌ অবরোধ শেষ করা এবং ইরান ও লেবাননে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে আল জাজিরা জানিয়েছে, প্রস্তাবটি তিনটি ধাপে যুদ্ধবিরতিকে ৩০ দিনের মধ্যে স্থায়ী শান্তিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইসরাইলসহ সকলের পক্ষ থেকে আক্রমণ না করার প্রতিশ্রুতি থাকবে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আর না ফিরে আসে।

প্রথম ধাপে ধীরে ধীরে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া এবং ইরানি বন্দরের ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে সমুদ্রের মাইন অপসারণের দায়িত্ব নেবে তেহরান। দ্বিতীয় ধাপে নির্দিষ্ট সময় পর ইরান ৩.৬ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুনরায় শুরু করতে পারবে, ‘জিরো-স্টোরেজ নীতি’ অনুসারে। এই পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরান বা তার মিত্রদের ওপর হামলা চালাবে না। এর বিনিময়ে ইরানও হামলা চালাবে না। তবে ইরান তার পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলা বা ধ্বংস করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার অংশ হিসেবে জব্দ করা অর্থ ধাপে ধাপে ছাড় দেয়ার কথাও বলা হয়েছে। তৃতীয় ধাপে তেহরান আরব প্রতিবেশীদের সঙ্গে কৌশলগত সংলাপ শুরু করে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়।

ট্রাম্প প্রস্তাবটিকে অগ্রহণযোগ্য বলতে পারেন- এমন মন্তব্যের পর ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানায়, ট্রাম্পকে একটি অসম্ভব অভিযান অথবা খারাপ চুক্তির মধ্যে বেছে নিতে হবে। তারা বলে, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ এখন সীমিত। এর আগের দিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, কূটনীতি নাকি সংঘাত- এখন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের। তিনি বলেন, ইরান উভয় পথের জন্যই প্রস্তুত।

ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে ট্রাম্প বলেন, কী কারণে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে, তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলতে চান না। তিনি বলেন, যদি তারা খারাপ আচরণ করে, কিছু ভুল করে- তাহলে (হামলা) হতে পারে। এখন দেখা যাক। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই বলেন, ইরান প্রয়োজনে মার্কিন জাহাজ ডুবিয়ে দেবে। তিনি এক্সে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র জলদস্যু, যার বিমানবাহী রণতরী আছে। জলদস্যুদের মোকাবিলা করার ক্ষমতা যেমন আছে, তেমনি যুদ্ধজাহাজ ডুবানোর ক্ষমতাও আমাদের আছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন