চট্টগ্রাম নগরের এবি ব্যাংক লিমিটেডের জুবিলী রোড শাখা থেকে প্রায় ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের মামলায় সীতাকুণ্ডের শিপব্রেকিং ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন ওরফে কুসুমকে ১১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে আত্মসাতের সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক ছিলেন। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত গিয়াস উদ্দিন (৫৩) সীতাকুণ্ড উপজেলার উত্তর ছলিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং ফৌজদারহাট এলাকায় অবস্থিত ‘তনহা স্টিল’ নামের একটি শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের মালিক। মামলার অপর আসামি এবি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৩১শে মার্চ গিয়াস উদ্দিন ‘তনহা স্টিল’-এর নামে ১৮ হাজার ৫৯৯ টন ওজনের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানির জন্য এবি ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখায় ৬৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকার একটি বৈদেশিক ঋণপত্র (এলসি) খোলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় ব্যাংককে ২৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা ফোর্সড লোন দিতে হয়।
পরবর্তীতে একই বছরের ১২ই নভেম্বর ৫ হাজার ৪০২ টন লোহার প্লেট আমদানির জন্য আরও ১৭ কোটি ৯৮ লাখ ৮৬ হাজার ৬০০ টাকার একটি স্থানীয় এলসি খোলা হয়। কিন্তু এই ঋণও তিনি পরিশোধ করেননি। তদন্তে জানা যায়, এলসি’র বিপরীতে আমদানি করা পণ্য ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে না রেখে গোপনে বিক্রি বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়। ফলে ব্যাংক তার অর্থ আদায়ে ব্যর্থ হয়। ২০১৪ সালের ১২ই মার্চ ব্যাংকের কর্মকর্তারা কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পান, সংশ্লিষ্ট মালামাল নেই এবং আসামি গিয়াস উদ্দিন দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
এ অবস্থায় উভয় ঋণের বিপরীতে সুদসহ ব্যাংকের মোট পাওনা দাঁড়ায় ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৫ টাকা। পরদিন ১৩ই মার্চ এবি ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখার ব্যবস্থাপক কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন বলেন, ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও নথিপত্রে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গিয়াস উদ্দিনের সবমিলিয়ে ১১ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।
