সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আফসার আলী নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে রাস্তার ইট তুলে নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। শনিবার বিকালে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের চরনবীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আফসার আলী ওই ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি, সাবেক ইউপি সদস্য ও একই গ্রামের বাসিন্দা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চরনবীপুর গ্রামের করতোয়া ডিগ্রি কলেজের মাঠ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইউসুফ আলী ও রফিক প্রামাণিকসহ ১৫-২০টি পরিবারের সদস্যরা চলাচল করতেন। কিন্তু সমপ্রতি প্রতিবেশী মিনা খাতুন বাঁশের বেড়া দিয়ে সেই পথ বন্ধ করে দেয়।
এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে তারা। টানা ২০ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশফিকা হোসেন সরজমিন পরিদর্শন করে চলাচলের জন্য উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ১০ ফিট প্রস্থ ও ১০০ ফিট দৈর্ঘ্যের ইটের রাস্তা তৈরি করার আশ্বাস দেন। সেই প্রেক্ষিতে গত ২৭শে এপ্রিল সদ্য বিদায়ী ইউএনও মাশফিকা হোসেন নিজে উপস্থিত থেকে রাস্তাটি নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ওই সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুশফিকুর রহমান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, গাড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এরপর ইউএনও মাশফিকা হোসেনের বদলির পর বিএনপি নেতা আফসার আলীর নেতৃত্বে গতকাল শনিবার রাস্তার সব ইট তুলে নিয়ে গেছে একদল লোক।
গাড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য শিউলী খাতুন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সদ্য বিদায়ী ইউএনও মাশফিকা হোসেন কয়েকটি পরিবারের চলাচলের জন্য সরকারের বরাদ্দে রাস্তাটি নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু নির্মাণের চারদিন পর বিএনপি নেতা আফসার আলী ও তার লোকজন ইটগুলো তুলে নিয়েছে। এদিকে, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আফসার আলী রাস্তার ইট তুলে নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, যেখানে রাস্তা করা হয়েছিল সেটি কলেজের জায়গা। তাই ইট তুলে কলেজের জায়গা দখলমুক্ত করেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। রাস্তার ইট তুলে নেয়ার বিষয়টি শুনেছি। ক’দিন আগে সদ্য বিদায়ী ইউএনও কয়েকটি অবরুদ্ধ পরিবারের চলাচলের জন্য উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে রাস্তাটি নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু সেই রাস্তার ইট নাকি কিছু লোক তুলে নিয়ে গেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
