হাওর পরিদর্শনে গিয়ে অশ্রু ঝরালেন ফজলুর রহমান

হাওর পরিদর্শনে গিয়ে অশ্রু ঝরালেন ফজলুর রহমান

ফন্ট সাইজ:

টানা বৃষ্টিতে এখন জলমগ্ন দিগন্তজোড়া একের পর এক হাওর। সেখানে তলিয়ে আছে সোনামাখা ধান। সেই ধান ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষক। পাকা ধানের মতোই ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন। হারিয়ে গেছে কৃষকের মুখের হাসি। সেই জমিতে বোনা আশার চারা থেকে যেন জন্ম নিয়েছিল শুধুই বেদনার ফসল। বৃষ্টিধারার মতোই এখন ঝরছে কৃষকের চোখের পানি। অঙ্কুরেই শেষ হয়ে গেছে হাওরে বাম্পার বোরো ফলনের সম্ভাবনা। বিপন্ন কৃষকের আর্তনাদ আর আহাজারিতে ভারী এখন কিশোরগঞ্জের হাওরপাড়। নিজে কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় তাদের এই সংকটে সবসময়েই গভীর মর্মবেদনা অনুভব করেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। সংসদ সদস্য কিংবা কোনো ধরনের দায়িত্বে না থেকেও হাওরের ফসল রক্ষায় অতীতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার হাওরবাসীর ভোটে তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদে।

তাই তার প্রতি হাওরবাসীর প্রত্যাশাও বিপুল। সংসদের প্রথম অধিবেশন চলার সময়েই এবার হাওরে দুর্যোগ শুরু হয়। ফসলহানির মধ্যে পড়েন হাজার হাজার কৃষক। বিচলিত হয়ে পড়েন ফজলুর রহমান। কৃষকের সংকটের বিষয়টি উত্থাপন করেন জাতীয় সংসদে। গত বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশন শেষ হতেই শুক্রবার ছুটে যান এলাকায়। সরজমিন পরিদর্শন করেন ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন হাওর। গভীর হাওরের পথ ধরে পানি ভেঙে হেঁটে হেঁটে পৌঁছান কৃষকের কাছে। কৃষকের দুঃখ-দুর্দশার বিবরণ শুনে তাদের সান্ত্বনা দেন। আশ্বাস দেন পাশে থাকার। এ সময় কৃষকের কান্না আর আহাজারি ছুঁয়ে যায় ফজলুর রহমানকেও। চোখের কোণ ভিজে ওঠে তার, চিবুক ছুঁয়ে নীরবে ঝরে পড়ে অশ্রু। শুক্রবার এবং শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত হাওর পরিদর্শনের সময়ে কৃষকের পাশে ফজলুর রহমানকে এভাবেই সহমর্মী হতে দেখা গেছে। কান্নারত কৃষকদের কাউকে বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কাউকে মাথায় হাত বুলিয়ে সহানুভূতি জানাচ্ছেন, কারও হাত টেনে নিয়ে ভরসা দিচ্ছেন। এ সময় ফজলুর রহমান বলেন, এই সংকটের সময় আপনারা নিজেদের একা ভাববেন না, আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। আল্লাহ যেন আমাদের এই বিপদ থেকে উদ্ধার করেন, এ জন্য সবাই দোয়া করেন। আমাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কথা দিয়েছেন, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদেরকে তিনি তিন মাসের জন্য খাবার সহযোগিতা দিবেন।

আমি আপনাদের এমপি হিসেবে সকল মানুষের কাছে এবং সারা পৃথিবীর সাহায্যকারী সংস্থার কাছে সাহায্য চাচ্ছি। হাওর অঞ্চলের মানুষের এই যে দুর্ভোগ, এই যে কষ্ট এবং আগামী এক বছর যে মানুষ বিপদে থাকবে, আমি চেষ্টা করবো সবাইকে নিয়ে এই অবস্থা থেকে কীভাবে উত্তরণ ঘটানো যায়। ফজলুর রহমান বলেন, হাওর অঞ্চলে উৎপাদিত বোরো ধানের এক-তৃতীয়াংশ আমাদের লাগে, বাকি দুই-তৃতীয়াংশ সারা বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকার মানুষ পায়। তাই এই এলাকাকে রক্ষা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সাহায্য সংস্থাগুলো এবং মানুষের কাছে আমি আহ্বান করবো, হাওরের মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাদের বাঁচান। ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকটি হাওর পরিদর্শন ছাড়াও ফজলুর রহমান ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা কৃষি অফিসার ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক সভা করেন।

এ সময় তিনি হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নসহ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা করেন। ফজলুর রহমান বলেন, হাওরে একটি মাত্র বোরো ফসল। এটি কৃষকদের জীবন-মরণের সঙ্গে জড়িত। কাজেই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত তালিকা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে ৩ মাস খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান। এ ব্যাপারে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সবাইকে সতর্ক করেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন