সাম্প্রতিক সময়ে সোমালিয়া উপকূলের কাছে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনায় আবারও বৈশ্বিক শিপিং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২০০০-এর দশকের ভয়াবহ জলদস্যু যুগের পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন নৌবাহিনী (ইইউ নেভাল ফোর্স) এবং অন্যান্য সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের শেষ দিকে কমপক্ষে ৩-৪টি জাহাজকে টার্গেট করা হয়েছে। এসব হামলায় তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজও রয়েছে। একই সময়ে বৃটেনের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) সোমালিয়া উপকূলের ঝুঁকির মাত্র উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে উন্নীত করেছে। জাহাজগুলোকে সতর্কভাবে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
বিশেষজ্ঞরা এ জন্য কয়েকটি কারণকে সামনে আনছেন। সেগুলো হলো- ২০২৩ সালের পর থেকে লোহিত সাগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর মনোযোগ বেড়েছে লোহিত সাগর এবং বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হামলা ঠেকাতে। ফলে সোমালিয়া উপকূল তুলনামূলকভাবে কম নজরদারিতে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সম্পর্কিত উত্তেজনা এবং সামুদ্রিক রুটে টহল বাহিনীর পুনর্বিন্যাস কিছু নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি করেছে। কিছু নৌপথ বিশেষ করে হরমুজ ও পারস্য উপসাগর ঘিরে নিরাপত্তা বাড়ানোয় অন্যদিকে মনোযোগ কমেছে। বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্যাংকার জাহাজগুলো বেশি মূল্যবান টার্গেট হয়ে উঠছে। এতে জলদস্যুদের আর্থিক লাভের সম্ভাবনাও বেড়েছে। কিছু এলাকায় স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী ও পুরনো জলদস্যু নেটওয়ার্ক আবার সক্রিয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরাসরি কোনো প্রমাণ নেই যে ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধই এই জলদস্যুতা বৃদ্ধির কারণ। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে নৌবাহিনীর টহল ও নিরাপত্তা সম্পদের পুনর্বিন্যাস হয়েছে, যা পরোক্ষভাবে সুযোগ তৈরি করতে পারে। সোমালিয়া উপকূলে ২০০০-এর দশকে জলদস্যুতা ছিল বিশ্বের অন্যতম বড় সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংকট।
২০১১ সালে বছরে ২০০টির বেশি হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ন্যাটো ও আন্তর্জাতিক জোট- ন্যাটো, অপারেশন আটলান্টা এবং অন্যান্য বাহিনী যৌথভাবে টহল বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফলে এক দশকের বেশি সময় ধরে হামলা কমে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি এখনও ২০১১ সালের মতো ভয়াবহ নয়, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে হামলার সংখ্যা বাড়ছে, ট্যাংকার টার্গেট করা হচ্ছে ও নিরাপত্তা ফাঁক কাজে লাগানো হচ্ছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো আবারও সতর্ক অবস্থানে যাচ্ছে।

Kazi
২ মাস আগেট্রাম্প জাহাজ লুটে তারা ও লুটে। ট্রাম্প নিজে নিজেই বলেছে জলদস্যু, তেল লুট করেছে, লাভের জন্য। তারাও লুটে লাভের জন্য। কিন্ত কোন সংবাদপত্র ট্রাম্প কে জলদস্যু লিখে না, যদিও ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করে।
বিশ্বের ধনী দেশের প্রেসিডেন্ট যে কাজ করে তাতে যদি দোষ না হয় এদের কাজ দোষনীয় কেন?