যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাগারে ভয়াবহ আগুন, গবেষণা হারানোর আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাগারে ভয়াবহ আগুন, গবেষণা হারানোর আশঙ্কা

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা সেন্ট পিটার্সবার্গ ক্যাম্পাসে শনিবার বিকেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞান স্থাপনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আকাশজুড়ে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। এতে বহু বছরের গবেষণা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুই শতাধিক দমকলকর্মী এবং ৬০টি ফায়ার ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সেন্ট পিটার্সবার্গ ফায়ার রেসকিউসহ বিভিন্ন ইউনিট এতে অংশ নেয়। দুইতলা ভবনটির ছাদ ভেদ করে আগুনের শিখা বের হতে দেখা যায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন লেগেছে তাদের মেরিন সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে। এর বয়স ৮০ বছরেরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন দ্রুতই সেকেন্ড-অ্যালার্ম জরুরি অবস্থায় রূপ নেয়। ফলে আরও বহু ইউনিট ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কায় আশপাশের সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নির্ধারণ করা হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা হতবাক হয়ে দেখেছেন, কীভাবে আগুন ক্যাম্পাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কেন্দ্রকে গ্রাস করছে।
এক শিক্ষার্থী অনলাইনে লিখেছেন, আমাদের সব গবেষণা ও রাসায়নিক এখানে সংরক্ষিত থাকে। এমনকি কেমিস্ট্রি ক্লাসের প্রয়োজনীয় জিনিসও। আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, ক্ষয়ক্ষতি হয়তো পূরণ করা সম্ভব হবে না। এখানে শুধু কাগজ নয়, বছরের পর বছর ধরে সংগৃহীত গবেষণার নমুনা আছে। আছে হারিকেন গবেষণা, রেড টাইড গবেষণা, মাছ ও পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা। এগুলো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না।

ট্যাম্পা বে অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা থেকে ধোঁয়ার বিশাল স্তম্ভ দেখা যায়, যা আগুনের ভয়াবহতা নির্দেশ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মী ফ্র্যাঙ্ক বিয়াফোরা বলেন, এটি সম্পূর্ণ ধ্বংসের মতো মনে হচ্ছে। এখানে অনেক শিক্ষকের গবেষণাগার ছিল- আমরা সবাই একে অপরের খোঁজ নিচ্ছি। তিনি আরও জানান, বাতাসের দিক পরিবর্তন হওয়ায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো গেছে। বাতাস পূর্ব দিকে বইছে, তাই আবাসিক হলগুলো রক্ষা পেয়েছে। যদি পশ্চিম দিকে যেত, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।

ইউএসএঅের সেলিং কোচ অ্যালিসন জলিও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ ক্ষতি বলে মনে হচ্ছে। সরঞ্জাম নষ্ট হওয়া এক বিষয়, কিন্তু বছরের পর বছর গবেষণা পুড়ে যাওয়া সত্যিই দুঃখজনক। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনটি দ্রুত খালি করা হয় এবং এ পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ল্যাবে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ রাসায়নিকের কারণে ঘটনাটিকে সম্ভাব্য বিপজ্জনক উপাদান পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগুনের কারণে আশপাশের সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ভবনটি ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

নিকটবর্তী ডরমেটরিতে থাকা এক শিক্ষার্থী স্টিফেন টার্নার বলেন, এটা এমন ঘটনা, যা আমরা শুধু মাঝে মাঝে শুনি। হঠাৎ করে নিজের ক্যাম্পাসে ঘটতে দেখছি। একসময় ভাবছিলাম, আমাকে কি জিনিসপত্র গুছিয়ে বের হয়ে যেতে হবে? তার রুমমেট জেক শেভার মেরিন সায়েন্সে উচ্চশিক্ষা নেয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি বলেন, আমি শুধু আশা করি তারা এটি পুনর্গঠন করতে পারবে। এদিকে কাছাকাছি একটি হাইস্কুলের প্রম অনুষ্ঠানও বাতিল করতে হয়েছে। গিবস হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পরই বাতিলের খবর পান। শনিবার রাত পর্যন্ত দমকলকর্মীরা আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আগুনের কারণ তদন্তাধীন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন