অস্ট্রেলিয়ায় ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

অস্ট্রেলিয়ায় ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

ফন্ট সাইজ:

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে মরণব্যাধি ব্রেইন টিউমারের সাথে লড়াই করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নওশিন নাওয়ার উর্বি( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহী রাজিউন)। উর্বির মৃত্যুতে সহপাঠী থেকে শুরু করে বাংলাদেশি প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত বছরে একবুক স্বপ্ন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে আসেন এবং মেলবোর্নে সোশ্যাল সায়েন্সে মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন উর্বি। বাংলাদেশে বসবাসকারী আশরাফুল আলম ফরিদের একমাত্র মেয়ে নওশিন নাওয়ার উর্বি। তিন ভাইবোনের মধ্যে বড় ছিলেন উর্বি। খুব শিগগিরই শিক্ষার্থী সিয়ামের সঙ্গে উর্বির বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।

এদিকে উর্বির মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়ায় একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সিয়াম। উর্বির মৃতদেহ দেশে পাঠানোর যাবতীয় ব্যবস্থা করছে অস্ট্রেলিয়া সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত নন প্রফিট অর্গানাইজেশন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশি কমিউনিটি হেল্প সেন্টার।

জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে উর্বি মাথা ব্যথায় ভুগছিলেন।  কিন্তু দুই দিন আগে হঠাৎ তার মাথাব্যথা তীব্র হয়ে ওঠে এবং তাকে মেলবোর্নের রয়্যাল হসপিটালের ইমার্জেন্সি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি অজ্ঞান হয়ে কোমায় চলে যান। পরে চিকিৎসকরা জানতে পারেন তার মস্তিষ্কে টিউমার ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসকরা তাকে ক্লিনিক্যালি মৃত ঘোষণা করেন। গত ২ সপ্তাহ পূর্বে সিডনি থেকে কলেজ পরিবর্তন করে মেলবোর্নে চলে যান।

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশি কমিউনিটি হেল্প সেন্টারের এডমিন সিএইচ মাহবুবুর রহমান প্রান্ত জানিয়েছেন, উর্বি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আমার সাথে যোগাযোগ করেন তার এক বন্ধু। এর পরে আমি উর্বির পরিবারের সাথে বাংলাদেশে কথা বলেছি। তাদের ইচ্ছা তাদের মেয়ের মরদেহ দেশে নিয়ে যাওয়া। দেশে উর্বির দুইজন ছোট ভাই রয়েছে। এদিকে এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক সংবাদে তার মা স্ট্রোক করে বাংলাদেশে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রয়্যাল মেলবোর্ন হাসপাতাল থেকে উর্বির মরদেহ ফিউনারেল সার্ভিসের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। আজ বা আগামীকাল এমবামিং (Embalming) সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।  আগামী সপ্তাহে মধ্যে উর্বির মরদেহটি দেশে পাঠাতে পারবেন বলে আশা করেছেন প্রান্ত। তিনি আরো জানান, উর্বির ইনসুরেন্সে মেডিকেল ও প্রত্যাবাসন (মৃতদেহ দেশে পাঠানো) কভার করার কথা উল্লেখ ছিল না। তাই উর্বির লাশ দেশে পাঠানোর যাবতীয় খরচ ব্যাপারে ১৫ থেকে ২০ হাজার ডলার আমাদেরকে ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের ফান্ডে কিছু টাকা ছিল তাই আমরা উর্বির লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারছি। এবং প্রবাসী অনেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে যারা নতুন শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়া আসবে বা যারা অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছেন  তাদেরকে ইন্সুইরেন্সে হসপিটাল কভার ও প্রত্যাবাসন সংযুক্ত করার আহবান জানিয়েছেন সিএইচ মাহবুবুর রহমান প্রান্ত। যাতে কেউ অসুস্থ হলে ও কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে যাবতীয় খরচ ইনসুরেন্স কভার করে।
তিনি বলেন, আমরা যত দ্রুত সম্ভব তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। মেলবোর্নে তার জানাজার সময় খুব শিগগিরই জানিয়ে দেয়া হবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন