নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতার খেসারত দিয়ে হেরেছে বাংলাদেশ। এই হারের কারণে তিন ম্যাচের সিরিজটি শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হয়। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় অনায়াসেই ম্যাচ বের করে নেয় কিউইরা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস হারের মূল কারণ হিসেবে ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই সামনে এনেছেন। বিশেষ করে লোয়ার অর্ডারের কাছ থেকে রান না পাওয়ায় তীব্র হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি। সিরিজের শুরুতে দাপুটে জয় পেলেও শেষ ম্যাচের এই অসহায় আত্মসমর্পণ দলের দুর্বলতাগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। খুব ছোট পুঁজি নিয়ে বোলাররা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট হয়নি। টস হেরে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ১৫ ওভারে মাত্র ১০২ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। রান রেট বাড়াতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন ব্যাটাররা।
হারের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অধিনায়ক লিটন দাসের কণ্ঠে আক্ষেপের সুর। তিনি বলেন, ‘ম্যাচ হারার পেছনে তো আমার মতে অবশ্যই ব্যাটিংয়ে রান কম হওয়াটা দায়ী, রান বেশি হলে ভিন্ন চিত্র হতে পারতো; লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব ছিল, চেয়েছিলাম তারা আমাদের ব্যাটিংয়ে কিছু দিক, কিন্তু আবারও ব্যর্থতা দেখলাম।’ টি-টোয়েন্টিতে অন্তত পাঁচ বিশেষজ্ঞ বোলার খেলানোর বাধ্যবাধকতার কথা আবারো মনে করিয়ে দেন তিনি। বোলিং অপশনের কোনো বিকল্প না থাকায় নিচের সারির ব্যাটারদের কাছ থেকে বড় অবদানের প্রত্যাশা করা হয়। শেখ মেহেদি কিংবা রিশাদদের মতো ক্রিকেটারদের ব্যাট হাতে দায়িত্ব নিতে হবে।
ঘরোয়া লীগ হোক বা আন্তর্জাতিক অঙ্গন, টি-টোয়েন্টিতে অলরাউন্ডারদের বিকল্প নেই। দলের এই ভারসাম্যহীনতা নিয়ে লিটন বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে তো পাঁচ বোলার ছাড়া যেতে পারবো না, আমি যদি নয় ব্যাটসম্যান নিয়ে যাই তবে তিন বোলার নিয়ে খেলা লাগবে; আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের স্পিনারদের পাশাপাশি ভালো ব্যাটিংটাও খুব বেশি দরকার।’ ম্যাচের মাঝপথে বৃষ্টির বাগড়া ও আচমকা বিরতিতে দলের মোমেন্টাম নষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন লিটন। তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে তার একটি জুটি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হলেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তাসকিন আহমেদ এবং মোস্তাফিজুর রহমানের মতো অভিজ্ঞ বোলারদের অনুপস্থিতিতে শরিফুল ইসলামরা দারুণ বোলিং করলেও দিন শেষে ব্যাটিং ব্যর্থতাই পার্থক্য গড়ে দেয়। লিটন বলেন, ‘এমন একটা পরিস্থিতি ছিল অবশ্যই আমি আর হৃদয় যদি পার্টনারশিপটা আরও একটু বড় করতে পারতাম তাহলে হয়তোবা খেলা অন্যরকম হতো; আমাদের বোলাররা বেশ ভালো বল করলেও মাত্র ওই রান দিয়ে প্রতিপক্ষকে আটকানো কঠিন ছিল।’
