ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া নতুন হাটখোলা এলাকায় গণপিটুনিতে হান্নান (৪৫) নামে এক ট্রাকচালকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত হান্নানের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায়। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ‘বেপরোয়া গতিতে’ ট্রাক চালিয়ে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটানোর অভিযোগে স্থানীয়রা তাকে গণপিটুনি দেয়। এ ঘটনায় আরও দু’জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা হলেন- সালথা উপজেলার সোনাখোলা গ্রামের নাঈম (২২) এবং একই উপজেলার কাগদী এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন (২৫)। নাঈম ট্রাকটির হেলপার ছিলেন। জানা যায়, সালথা উপজেলার রসুলপুর এলাকা থেকে আসা একটি ট্রাক অত্যন্ত দ্রুতগতিতে গ্রামের সরু সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। ট্রাকটির বেপরোয়া গতির কারণে পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্রাকটি পথে রসুলপুরসহ আশপাশের এলাকায় একাধিক পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটির ধাক্কায় অন্তত ৯ জন পথচারী আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে ট্রাকটি বিলনালিয়া নতুন হাটখোলা এলাকার মুন্সী স্টোরে সজোরে ধাক্কা দিলে ক্ষুব্ধ জনতা সেটির গতিরোধ করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা ট্রাকচালক, হেলপারসহ তিনজনকে গণপিটুনি দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। একইসঙ্গে ট্রাকটিতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ এবং তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া।
তারা উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। ড্রাইভার হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান। নগরকান্দা থানার ওসি রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ট্রাকটি বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে আসছিল। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। আহতের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা হচ্ছে। নিহত চালকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। পুরো ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
