বিবাহিত সীমার প্রেমের ফাঁদ থেকে কলেজপড়ুয়া একমাত্র ছেলেকে রক্ষা করতে পারিবারিকভাবে পিসির মেয়ের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করেছিল বাবা-মা। আগামী ৭ই মে (বৃহস্পতিবার) সৈকতের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। গতকাল বিকালে বিয়ের কেনাকাটাও করেছিল হবু বধূকে নিয়ে ১৮ বছরের টকবগে যুবক সৈকত মুখার্জি, কিন্তু তার আর বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলো না। কারণ সৈকতের বিয়ের কথা জানতে পেরে সীমা এসএমএস দেয়ার পরে শনিবার ভোররাতে ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে সৈকত মুখার্জি।
ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর গ্রামে। সৈকত ওই গ্রামের আদিত্য মুখার্জির একমাত্র পুত্র এবং শ্যামনগর সরকারি মহাসীন কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। সৈকত মুখার্জির বাবা জানান, আমার একমাত্র ছেলেকে ফুসলিয়ে প্রেমের জালে ফাঁসায় উপজেলার শংকরকাঠি গ্রামের হরিদাস বৈরাগীর বিবাহিত মেয়ে সীমা। ঘটনা জানার পরে সৈকতের বিয়ে ঠিক করি। রাতে সীমার সঙ্গে সৈকতের ফোনে কি কথা হয়েছে জানি না। তবে ভোরে সীমা আমার স্ত্রীকে ফোন করে বলে সৈকত এসএমএস এর উত্তর দিচ্ছে না, দেখেন তো কি হয়েছে। তখন আমরা সৈকতের ঘরে যেয়ে দেখি সে গলায় রশি দিয়ে ঝুলে আছে।
আমরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সীমা ও তার পরিবারের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকে পাওয়া যায়নি। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. খালেদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একটা ইউডি মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সাতক্ষীরা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। সৈকতের পরিবার থেকে যদি কোনো অভিযোগ দেয় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
