বালু উত্তোলন ঝুঁকিতে ১০ সেতু

বালু উত্তোলন ঝুঁকিতে ১০ সেতু

ফন্ট সাইজ:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ১০ কিলোমিটার এলাকার ৫টি সেতু ও সীমান্ত এলাকায় আরও ৫টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জরুরিভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা না হলে যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে সড়কে যান চলাচল। ঘটতে পারে প্রাণহানি। এরপরও থামছে না বালু উত্তোলন। বিগত ১০ বছর পূর্বে চণ্ডিছড়া, সাতছড়ি ছড়া, চাকলাপুঞ্জি ছড়া ও বেগমখাঁন ছড়া ১০ ফুটের জায়গায় ৫০ ফুট কোথাও ৭০, কোথাও ১০০ ফুট, কোথাও ২০০ ফুটেরও বেশি গভীর হয়েছে। সরজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, সেতুগুলোর পাশ থেকে মাটি সরে গিয়ে বিরাট ভাঙন দেখা দিয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে চা বাগানের ছড়া ও খোয়াই নদী থেকে সিলিকা বালু উত্তোলনের ফলে ছড়া ও নদীর গভীরতা বেড়ে গেছে। খোয়াই নদীর গভীরতা বেড়েছে ১০ থেকে ১২ হাত পর্যন্ত। ফলে সেতুগুলো ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে পড়েছে। কৃষিজমি বিলীন হচ্ছে নদীগর্ভে।

নদী ও ছড়া গভীর হওয়ার কারণে বের হয়ে গেছে সেতুর এপ্রোস-পিলার। এদিকে গাজীপুর ইউনিয়েন উসমানপুর সেতু, ইছালিয়া সেতু ও মুড়িছড়া সেতু, আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের রাজার বাজার সেতু মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, এসব ভাঙন দেখা দেয়ার পরও থামছে না বালু উত্তোলন। নতুন করে আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বনগাঁও অংশ থেকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছে। বসেছে বড় বড় ড্রেজার মেশিন। এতে করে খোয়াই পাড়ের ৬০টি পরিবারের মাঝে নদীভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রশাসনের কাছ লিখিত আবেদন করেও বালু উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না। রফিকুল ইসলাম নামের এক বাসিন্দা বলেন, বিএনপি’র নাম ভাঙিয়ে ছড়া ও নদী থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। প্রতিবাদ করলে বৈষম্যবিরোধী মামলায় জড়িয়ে দেয়ার হুমকি আসে। চা শ্রমিকরা জানান, চলতি মওসুমে প্রবল বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ও চা বাগানের পানিতে বালু-মাটি সরে যাচ্ছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী হাজার হাজার চা গাছ পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে তলিয়ে যাচ্ছে। ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে চা বাগান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তা। ৪-৫টি সেতুতে ফাটল দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন তা পর্যবেক্ষণ করেছে। শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও ব্রিজ মেরামত করা হবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন