বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি জিতে সিরিজে সমতা নিউজিল্যান্ডের

বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি জিতে সিরিজে সমতা নিউজিল্যান্ডের

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টি জিতে সিরিজ জয়ের দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিরিজ আর জেতা হলো না স্বাগতিকদের। বৃষ্টিতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি পরিত্যক্ত হওয়ার পর আজ মিরপুরে বৃষ্টিবিঘ্নিত তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করল নিউজিল্যান্ড।

১৫ ওভারে ১০৩ রানের লক্ষ্য আহামরি কঠিন কিছু না। কিন্তু শরীফুল ইসলামের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বিপদে পরেছিল নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় ওভারে ক্যাটেন ক্লার্ক ও ডেন ক্লিভারকে ফিরিয়েছেন শরীফুল। দুই ব্যাটারই আউট হয়েছেন ১ রান করে। দুটিতেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ ধরেছেন। যেখানে দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে ক্লিভার আউট হওয়ার পর শরীফুল-লিটন দাসরা জোরালো আবেদন করলেও আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল সাড়া দেননি। লিটন সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন। রিভিউতে স্পাইক ধরা পড়লে আউট হন ক্লিভার। তবে বাকি পথটা খুব সহজেই পাড়ি দিয়েছে দলটি। জ্যাকবস ও ফক্সক্রফটের ৪০ বলে ৭১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৬ উইকেটে জিতেছে নিউজিল্যান্ড। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ফিফটি পেয়েছেন জ্যাকবস। ৩১ বলে ৬২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। শরীফুল নিয়েছেন ৩ উইকেট।

এর আগে টসে হেরে আগে ব্যাট করার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশের শুরুটা খারাপ হয়নি। শেরে বাংলায় বৃটিষ্টর নামা আগে বড় শট খেলার প্রচেষ্টায় ব্যাট ও বলের সঠিক সংযোগ করতে ব্যর্থ হন সাইফ হাসান (১১ বলে ১৬)। কোনোমতে ৩০ গজ পার করে আটকা পড়েন রবিনসনের হাতে। তার বিদায়ে ২১ রানে পতন হয় বাংলাদেশের প্রথম উইকেটের। এরপর অধিনায়ক লিটন দাস এসে উড়ন্ত শুরু করলেও পরপর দুই বলে অন্য ওপেনার তানজিদ তামিম ও পারভেজ হোসেন দ্রুত আউট হলে ৩৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে স্বাগতিকরা। এরপর বৃষ্টিবাধায় পড়ে ম্যাচ। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৬.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ৫০ রান ছিল বাংলাদেশের। বৃষ্টির পর চালিয়ে খেলার চেষ্টা করে স্বাগতিকরা। কিন্তু লিটন দাস আর বেশিদূর এগোতে পারেননি। ১৭ বলে ৩ চার আর ১ ছক্কায় ২৬ রান করে ক্লার্কসনের বলে সুইপার কভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

৬৩ রানে ৪ উইকেট হারায় টাইগাররা। এরপর হাত খোলেন তাওহীদ হৃদয়। তবে শামীম হোসেন পাটোয়ারী আজ সুবিধা করতে পারেননি। ৮ বলে ৩ রান করে ইশ সোধির ফুুলটস বলে রিভার্স শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। কিউই বোলাররা চেপে ধরে বাংলাদেশকে। শেখ মেহেদী নো বলে একবার জীবন পান, বেঁচে যান এলবিডব্লিউ থেকে। কিন্তু বাঁচতে পারেননি হৃদয়। ক্লার্কসনের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন বাউন্ডারিতে। ২৪ বলে ৩ চার আর ২ ছক্কায় হৃদয় করেন ৩৩ রান। দলে সুযোগ পাওয়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ব্যাট হাতে হতাশ করেছেন, ফেরেন গোল্ডেন ডাকে। রানআউট হওয়ার আগে রিশাদ হোসেন করেন ৪ বলে ৫। একশর আগেই (৯৫ রানে) ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে আর বেশিদূর এগোতে পারেনি টাইগাররা। শেখ মেহেদী ৬ বলে ৭ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৪.২ ওভারে ১০২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের জস ক্লার্কসন মাত্র ৯ রান দিয়ে শিকার করেন ৩টি উইকেট।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন