কী এই একতরফা নিষেধাজ্ঞা?

কী এই একতরফা নিষেধাজ্ঞা?

ফন্ট সাইজ:

ইরান এবং চীনের উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা ইরানের পেট্রোলিয়াম, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য এবং পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের বাণিজ্যের সাথে জড়িত বেশ কয়েকটি চীনা সংস্থা, একজন ব্যক্তি এবং একটি জাহাজের উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। তাদের এই সিদ্ধান্তকে একতরফা নিষেধাজ্ঞা বলা হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে অন্যান্য দেশগুলো নিষেধাজ্ঞা মানতে বাধ্য যদি তা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ আরোপ করে।

১৯৪৫ সালে স্বাক্ষরিত জাতিসংঘ সনদ অনুসারে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো অন্য সদস্য দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ করার জন্য আহ্বান জানাতে পারে। এটি স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) নামেও পরিচিত। নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া বা তার বাইরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলোকে ‘একতরফা’ বলে গণ্য করা হয়। এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা কোনো একক রাষ্ট্র, একাধিক রাষ্ট্রের গোষ্ঠী বা কোনো আঞ্চলিক সংস্থা দ্বারা আরোপিত হতে পারে।

২০০৬ সালের জুলাই মাসে, ইরানকে সতর্ক করেছিলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। ইরান যদি পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পরতে হতে পারে। সেই বছরের ডিসেম্বরে, নিরাপত্তা পরিষদ ইরান এবং ইরানের পারমাণবিক কার্যকলাপে সমর্থন প্রদানকারী ব্যক্তি ও সংস্থার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ভোট দেয়।

২০১৮ সালে, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের প্রধান ব্যাংক, তেল রপ্তানিকারক এবং জাহাজ কোম্পানিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে নিজেদের নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ায়।

সম্প্রতি, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাথে বাণিজ্য করছে এমন অন্যান্য দেশগুলোকেও এর অন্তর্ভুক্ত করে নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়িয়েছে। কিছু সদস্য রাষ্ট্র বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপগুলো একতরফা। জাতিসংঘের অবরোধের মাত্রা অতিক্রম করছে যুক্তরাষ্ট্র বলে অভিযোগ করেছে দেশগুলো।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন