ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা হাভানার

ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা হাভানার

ফন্ট সাইজ:

কিউবা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞাকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। কিউবা এগুলোকে ‘একতরফা জোরপূর্বক ব্যবস্থা’ এবং ‘কিউবার জনগণের ওপর সামষ্টিক শাস্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ফ্লোরিডায় এক বক্তব্যে ট্রাম্প কিউবাকে দখল করে নেয়ার হুমকিও দিয়েছেন। অনলাইন আল জাজিরার খবরে বলা হয়- শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেন, এসব ব্যবস্থা ‘দেশের বাইরে প্রভাব ফেলে এবং জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করে।’

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘কিউবা বা তৃতীয় কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা আরোপ করার কোনো অধিকার নেই।’ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার নিজের জনগণকে রাস্তায় দমন করে। আর আমাদের জনগণকে শাস্তি দিতে চায়। কারণ, তারা সাহসিকতার সঙ্গে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আক্রমণ প্রতিরোধ করছে।

কিউবার মন্ত্রীর এই মন্তব্য আসে সেই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর, যখন হোয়াইট হাউস কিউবার বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নীতির ইঙ্গিত দেয়। শুক্রবারই ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে কিউবার ওপর নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণ করেন বলে দু’জন হোয়াইট হাউস কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানায়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ওয়াশিংটন হাভানার ওপর চাপ আরও বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী অপসারণের পর এবং ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার পর যেখানে তিনি বলেছেন, ‘কিউবা পরবর্তী লক্ষ্য।’

নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত সেই ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করছে যারা কিউবার নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা করে। এছাড়া যেসব ব্যক্তি দুর্নীতি, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন বা সরকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/সমর্থক হিসেবে কাজ করে, তাদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরাসরি প্রভাবিত হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, কিউবা একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এর মধ্যে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নামও উল্লেখ করা হয়।

ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে। এ বছরের শুরুতে তিনি একটি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং বলেন, কিউবা একটি অস্বাভাবিক ও অসাধারণ হুমকি তৈরি করেছে। নতুন নীতিতে বলা হয়েছে, যে কোনো দেশ কিউবায় তেল সরবরাহ করলে তাদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এর ফলে কার্যত কিউবার ওপর জ্বালানি অবরোধ তৈরি হয়েছে, যা দেশটির ইতিমধ্যে দুর্বল অর্থনীতিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন