সুনামগঞ্জে টানা ৫ দিন পর আকাশে রোদের দেখা মিলেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে আকাশে রোদের দেখা দেয়ায় কৃষকদের মাঝে কিছুটা আশার সঞ্চার হলেও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় বন্যার আশঙ্কা এখনো কাটছে না। এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে কৃষকের দুর্ভোগ দিন দিন চরম আকার ধারণ করছে। রোদ ওঠায় কৃষকদের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও কাটা ধান শুকাতে না পারা এবং পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন এ জেলার লাখো কৃষক। সরজমিন দেখা গেছে, হাওর গুলোতে কোমর থেকে বুক সমান পানিতে নেমে কৃষকরা ধান কাটছেন। তবে টানা বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গায় ধান স্তূপ করে রাখায় গন্ধ বের হয়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেইসঙ্গে পানি বেশি থাকায় অনেক এলাকায় ধান কাটাই সম্ভব হচ্ছে না।
আবার কাটা ধানও রোদ না থাকায় শুকাতে না পেরে নষ্ট হচ্ছে। ঠান্ডা পানি ও প্রবল বাতাসে দীর্ঘ সময় পানিতে থাকা শ্রমিকদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়- গত বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং এ সময়ে সুরমা নদীর পানি বেড়েছে ১৮ সেন্টিমিটার। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিতে নদীর পানি ৫৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছিল। গত সোমবার রাতে ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত মৌসুমের সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়, এতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে হাওরের বোরো ধানের। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান- বৃষ্টি কমলেও ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মৌসিনরামে ভারী বৃষ্টির কারণে উজানে ঢল অব্যাহত রয়েছে। ফলে সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটাসহ জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে এবং তা হাওরে ঢুকে ধান তলিয়ে দিচ্ছে। তাহির পুরের জিল্লুর রহমান বলেন- মাটিয়ান হাওরের বেশির ভাগ ধান কাটা হয়েছে, কিন্তু নিচু এলাকার ধান এখনো কাটা যাচ্ছে না।
পানি বেশি, শ্রমিক সংকট সবমিলিয়ে খুব কষ্টে আছি। ১০-১২ দিন টানা রোদ পেলে ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়- এ পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার ৫৭ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৭ হেক্টর। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। কৃষি বিভাগের তথ্যে দেখা গেছে, জেলায় ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত কাটা হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ২৮৫ হেক্টর, যা মোট আবাদকৃত জমির প্রায় ৪৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
