পুরোনো ছবি দিয়ে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার ‘অপপ্রচার’ বললেন প্রতিমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম নগরীর সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি নিয়ে ফেসবুকে ২০২৩-২৪ সালের ছবি দিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। প্রতিমন্ত্রীর দাবি, বাস্তবে চট্টগ্রাম নগরী পানিতে ডুবে যায়নি। ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় সাময়িক জলজট সৃষ্টি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২০২৩ সালের পুরোনো ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনের সময় তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে পাঠিয়েছেন। উনার কাছে যে খবর ছিল চট্টগ্রামে ব্যাপক জলাবদ্ধতা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে ২০২৩-২৪ সালের বিভিন্ন ছবি দিয়ে একটা অপপ্রচার চালানো হয়েছে যে, চট্টগ্রাম মহানগর পানির মধ্যে ভাসছে। এই খবরে প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারপরে সংসদেই তার কার্যালয়ে ডেকে উনি আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন যে, আপনি এক্ষুণি চট্টগ্রামে যান। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নিয়ে বসে কী সমস্যা আছে, সমাধান করে তারপর আপনি ফিরবেন।

তিনি বলেন, ‘আমি বুধবার সন্ধ্যায় এসেছি, ঘুরেছি। যেভাবে মিডিয়াতে নিউজ এসেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও, এরকম জলাবদ্ধতা আমি এসে দেখিনি। রাতে বলেছি, চট্টগ্রাম পানির মধ্যে ভাসছে না। চট্টগ্রামের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও সোশাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বলেন, আপনারা সজাগ, সচেতন ও খুব ট্যালেন্ট মানুষ। তবে এইটুকু অনুরোধ করি, শুকনা রাস্তাকে আপনারা ভাই চট্টগ্রাম বৃষ্টির মধ্যে ভাসছে এটা দেখাইয়েন না।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘এখন প্রশ্ন এটা হতে পারে, প্রবর্তকের মোড়সহ কয়েকটি জায়গায় হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ার কারণে, আপনাদের সবারই স্বাভাবিক জ্ঞান থাকার কথা যে- হঠাৎ করে এ রকম মহানগরীতে ৮০-৮৫ বা ৯০ মিলিমিটারের ভারী বৃষ্টি যদি হয় স্বাভাবিক কারণেই এই পানিটি সরতে একটু সময় লাগবে। এটাকে আমরা জলাবদ্ধতা বলবো না, এটাকে আমরা জলজট বলবো। জলাবদ্ধতা কোনটা হবে, তিনদিন-চারদিন ধরে পানি নামছে না। আর যে তিনটি পয়েন্টে সামান্য একটু পানি আটকে ছিল ওখানে আমাদের কাজ চলমান আছে। ৩৬টি খালের মধ্যে এ ছয়টি খালের কাজ যে এলাকাগুলোতে চলমান আছে সেখানে জলাবদ্ধতা ছিল একদিন। এরপরও সিটি করপোরেশন, আমাদের সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড সবাই যৌথভাবে গিয়ে ওই চলমান কাজের জন্য কিছু রিটেইনিং ওয়াল দেওয়া ছিল, রিটেইনিং ওয়ালের কারণে পানি বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। সেগুলো অপসারণ করে পানিটা তারা নিষ্কাশন করে দিয়েছে। স্থায়ীভাবে যাতে জলাবদ্ধতা না হয় এজন্য উনারা গতকাল রাত থেকে কাজ শুরু করেছে, দিনরাত কাজ চলছে। বর্ষাকালের আগে এ সমস্ত খালের উন্নয়নমূলক কাজ আপাতত আমরা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ব্যারিকেড ও রিটেইনিং ওয়ালগুলো উঠিয়ে নেব আমরা। বর্ষাকালের পর আবার ডেভেলপমেন্টের কাজ হবে’।

তিনি বলেন, আমি মেয়র সাহেবকে মজা করে বলছিলাম, কিছু পানি নিষ্কাশনের পাম্প গাড়ির মধ্যে নেন আমরা কোথাও যদি পানি পাই নিজেরাই নিষ্কাশন করে দেব। কিন্তু আমি কাল থেকে ভাই ঘুরছি আপনাদের সাথে নিয়ে এবং পাম্পও আমাদের গাড়িতে আছে। আমরা পাম্প কিন্তু ইউজ করতে পারিনি। এটাই বাস্তবতা। বাস্তবতা হচ্ছে ২৪ সালের যে চিত্র ছিল চট্টগ্রামের, ২৫ সালে সেটির ৭০-৮০ পার্সেন্ট সমস্যার সমাধান হয়েছে। এখন খালগুলোর যে অবস্থা আমি ঘুরে দেখছি এবং কাজ যেটি চলমান আছে, ডিসেম্বরে সমাপ্ত হবে। চট্টগ্রামবাসীকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এটুকু আশ্বস্ত করতে পারি, ৭০-৮০ ভাগ জলাবদ্ধতা থাকবে না। বাকি যে ১৫-২০ পার্সেন্ট থাকবে এটার জন্য আপনাদের ডিসেম্বর পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করতে হবে এবং আমাদের সময় দিতে হবে, যেহেতু প্রকল্পের কাজটি চলমান আছে।
সিডিএ’র ব্যর্থতা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যর্থতা ওইভাবে বলব না। সিডিএ’র জনবলের ঘাটতি আছে। এবং সিডিএ’র কাজটা তো আমাদের সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড করছে। উনারা মনিটরিং করছে। আমাদের কিছু অর্থ ছাড়ের বিষয় আছে। কিছু জটিলতা আছে।

সিটি মেয়রের নেতৃত্বে কমিটি গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে মেয়রের নেতৃত্বে সব সেবা সংস্থাকে নিয়ে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কমিটি কার্যকরভাবে কাজ করলে ভবিষ্যতে স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চলমান প্রকল্পের কারণে সাময়িক ভোগান্তি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল মিলবে। ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে আমরা কাজ করছি। যেখানে সমস্যা হয়েছে, সেখানে সরাসরি কথা বলে সহযোগিতা করা হবে। মেয়রের দাবি, গত এক বছরে নগরীর প্রায় ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘৩০ বছরের একটি সমস্যা সমাধানে সিডিএ, সেনাবাহিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সব সংস্থার সমন্বয়ে কাজ চলছে। প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে সমন্বিত কমিটি গঠিত হলে কাজের গতি আরও বাড়বে।’

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন