ইরান যুদ্ধ নিয়ে এই প্রথমবার কংগ্রেসে প্রকাশ্য শুনানিতে মুখোমুখি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষমন্ত্রী পিট হেগসেথ। কয়েক ঘন্টা চলা এই তীব্র জেরায় জয়েন্ট চীফ অফ স্টাফ ড্যান কেইনও তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। জেরায় হেগসেথ যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য এবং যুদ্ধের সময়সীমা সহ বহু প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ২ মাস অতিক্রম হবার পর এই প্রথম প্রকাশ্যে কঠিন জেরার মুখে পরলেন হেগসেথ।
যুদ্ধে খরচ কত
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ২৫০০ কোটি ডলার বলে জানিয়েছেন পিট হেগসেথ। তিনি জানান, যুদ্ধাস্ত্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে এই অর্থ ব্যয় হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। যুদ্ধে ব্যবহৃত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম কমে যায়। সামরিক সক্ষমতা ঠিক করতে এই অর্থ লেগেছে বলেন হেগসেথ। প্রশাসন কংগ্রেসের নিকট আরো ২০ হাজার কোটি ডলারের যুদ্ধ বাজেট চাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। যদিও কংগ্রেসের নিকট সরকারিভাবে এখনো এই প্রস্তাব পাঠানো হয়নি। পিট হেগসেথ দেড় লাখ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটের কার্যকারিতা তুলে ধরেন। মার্কিন করদাতাদের অর্থ অযাচিত ব্যয় হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে হেগসেথ ‘ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না এটা নিশ্চিত করতে কি করা উচিত?’ বলে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন।
ইরানের পারমানবিক অস্ত্র নিয়ে প্রশ্ন
আইনপ্রণেতারা পেন্টাগন প্রধানকে কঠিন প্রশ্নের মুখে ফেলেন ইরানের পারমানবিক অস্ত্র বিষয়ে। হেগসেথের স্ববিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করে প্রশ্ন করেন ডেমোক্রেট প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথ। এর আগে ২০২৫ সালের ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে জানানো হলেও আবার এখন কেন ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকির কথা বলা হচ্ছে? এ প্রশ্ন রেখে তিনি আরো বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচী যেখানে ছিলো ঠিক সেখানেই আছে।
এটাকে কর্দমাক্ত জলা বলবেন না
ডেমোক্রাট প্রতিনিধি জন গ্যারামেন্ডি ইরান যুদ্ধকে কর্দমাক্ত জলাভূমির সঙ্গে তুলনা করে বলেন, রাজনীতি এবং অর্থনীতি খুবই বাজে অবস্থায় রয়েছে। এতে হেগসেথ বলেন, ডেমোক্রেটরা শত্রুদের হাতে প্রোপাগান্ডা তুলে দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ যার মুখোমুখি আমরা এই মুহূর্তে হচ্ছি তা হলো বেপরোয়া, অকর্মণ্য এবং হতাশ ডেমোক্রেটরা এবং কিছু রিপাবলিকান। ইরাক যুদ্ধের মতো ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসে শক্ত প্রশ্ন করা উচিত কিনা? জিজ্ঞেস করা হলে হেগসেথ একে অসামাঞ্জস্য তুলনা বলেন।
শত্রুকে কোনো ছাড় নয়
হেগসেথর পূর্বে এক বক্তব্য ‘শত্রুকে কোন ছাড় নয়, কোনো ক্ষমা করা হবে না’ নিয়ে প্রশ্ন করেন মউল্টন। মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং যুদ্ধপরাধ মূলক এই বক্তব্যের পক্ষে হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জয়ের জন্য যুদ্ধ করে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই আমাদের যোদ্ধারা যথা সম্ভব মানবিক উপায়ে যুদ্ধ পরিচালনা করবে। আরেক প্রতিনিধি রো খান্না যুদ্ধের শুরুতে ইরানের মিনাবের স্কুলে হামলায় শিশুদের নিহত হওয়াকে উল্লেখ করে বলেন মার্কিন করদাতারা কি এর জন্য অর্থ প্রদান করে কিনা। জবাবে হেগসেথ বলেন, অনাকাঙ্খিত সেই ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে তিনি এর সঙ্গে করদাতাদের অর্থের বিষয়টি সংযুক্ত করতে নারাজ ছিলেন। ট্রাম্পের সভ্যতা ধ্বংস করে দেয়ার বক্তব্যকে উল্লেখ করে তার মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সারা জ্যাকব। জবাবে হেগসেথ প্রজন্মের সবচেয়ে তীক্ষè এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আখ্যা দেন ট্রাম্পকে।
এদিকে চীফ অফ ডিফেন্স ড্যান কেইনের তথ্যে বাড়লো যুক্তরাষ্ট্রের মৃত সেনার সংখ্যা। কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিহত সেনার সংখ্যা ১৪ জন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরান কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বাজে অবস্থায় রয়েছে বলেও জানান।
সমর্থন দিলেন রিপাবলিকানরা
পিট হেগসেথকে ডেমোক্রেট প্রতিনিধিরা তীব্র আক্রমণ করলেও রিপাবলিকানরা তাকে সমর্থন দেন। ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট নিয়ে যখন ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ চালিয়ে নেয়ার ক্ষমতা হুমকির মুখে তখন হেগসেথকে সমর্থন জানালেন রিপাবলিকানরা। এর আগে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেও বুধবার হেগসেথকে সমর্থন দেন অধিকাংশ রিপাবরিকান।
