প্রথম আলো
প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ‘জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি নেই, তবে আসেনি ‘জরুরি তেল’।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার নতুন উৎস থেকে সরাসরি তেল কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। এ প্রক্রিয়ায় ৫৬টি বিদেশি কোম্পানি আবেদন করে কাজ পেয়েছে ৮টি। আরও কয়েকটি কাজ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ তেল সরবরাহ করেনি। অর্থাৎ গত দুই মাসে ‘জরুরি সরবরাহের’ জ্বালানি তেল আসেনি। এখন জুলাই-ডিসেম্বরের জন্য তেল কিনতে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে।
যদিও দেশে আপাতত জ্বালানি তেলের সংকট নেই। বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর পর ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় কমেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে আরও দুটি জাহাজ আসার আলোচনা আছে। মে মাসে ডিজেলের চাহিদা ৩ লাখ ৭০ হাজার টন। ৩ লাখ ২৯ হাজার টন ডিজেল আসার কথা নিশ্চিত করেছে সরবরাহকারীরা। অকটেনের চাহিদা ৩৭ হাজার টন। স্থানীয় উৎস থকে ২৪ হাজার টন পাওয়া যাবে। আমদানি হয়ে আসার কথা সাড়ে ২৬ হাজার টন। এর বাইরে সরাসরি ক্রয়প্রক্রিয়া থেকে ডিজেল ও অকটেন আমদানি হলে মজুত বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিবছর ৬ মাস করে দুই ধাপে তেল কেনার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। পরিশোধিত জ্বালানির ৫০ শতাংশ কেনা হয় সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) চুক্তির মাধ্যমে। আর বাকি ৫০ শতাংশ কেনা হয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে। গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ের তেল কেনা মার্চের মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। এবার সংকট পরিস্থিতিতে সরাসরি তেল কেনার প্রস্তাব বিবেচনা করতে গিয়ে পিছিয়ে গেছে বিপিসি। এখন স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে আবার সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
জরুরি পরিস্থিতিতে তেল সংগ্রহের বিষয়ে বিপিসি সূত্র বলছে, গত ৭ মার্চ সরকারকে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তাব দেয় একটি কোম্পানি। ৯ মার্চ সমঝোতা, কারিগরি কমিটির প্রতিবেদন ও বোর্ড সভার অনুমোদন দিয়ে পরদিন জ্বালানি বিভাগে পাঠানো হয়। ১২ মার্চ প্রথমে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও পরে ক্রয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দেয়।
এভাবে মাত্র ৫ দিনেই চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়ে যায় ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিবন্ধিত কোম্পানি এঅ্যান্ডএ এনার্জি অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এলএলসি। তবে ২২ এপ্রিলের মধ্যে পারফরম্যান্স গ্যারান্টির (পিজি) টাকা জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তারা দেয়নি। ফলে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (নোয়া) বাতিল হয়ে যায়। কাজাখস্তান থেকে তেল সরবরাহের কথা বলেছিল ওই কোম্পানি। এক লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করতে গত ১৫ মার্চ ওই কোম্পানিকে নোয়া দেয় বিপিসি। এটি সরবরাহের পর আরও এক লাখ টন ডিজেলের নোয়া দেওয়ার কথা। দুই লাখ টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল সরকার।
জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসি সূত্র বলছে, শুধু এঅ্যান্ডএ এনার্জি অয়েল অ্যান্ড গ্যাস নয়। এখন পর্যন্ত ৫৬টি কোম্পানির আবেদন জমা পড়েছে বিপিসির কাছে। ইতিমধ্যে ৮টি কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হয়েছে। আরও বেশ কিছু প্রস্তাব মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। তবে দুই মাসেও এসব কোম্পানির কাছ থেকে তেল আসেনি। সামনে সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। মাত্র একটি কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধি ২৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের পিজি জমা দিয়েছে।
বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। এক দিনের মাথায় বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে। সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এমন সময় সরকারকে জ্বালানি তেল সরবরাহ দিতে একের পর এক কোম্পানি প্রস্তাব নিয়ে আসতে থাকে। সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সাবেক ও বর্তমান আমলাদের কেউ কেউ এসব কোম্পানির পক্ষে সুপারিশ করেন। জ্বালানি বিভাগের চাপে যাচাই-বাছাই ছাড়াই দ্রুত অনুমোদন দিয়ে এসব প্রস্তাব জ্বালানি বিভাগে পাঠানো হয়।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পিজি নির্ধারণের জন্য প্রস্তাবিত দাম বিবেচনা করা হয়েছে। তবে বিল পরিশোধ করা হবে জাহাজ আসার পর বাজারমূল্য দেখে। তাই বাড়তি বিল পরিশোধের সুযোগ নেই। পিপিআর মেনেই পিজি জমার ২৮ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। পরে আগ্রহী কোম্পানি নিজ থেকে কমিয়ে ৭ দিন নিয়েছে। যাচাই-বাছাই করেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আরও দুটি কোম্পানি পিজি দেবে বলেছে। সরাসরি ক্রয় থেকে তিনটি কার্যাদেশ সফল হলেও বাড়তি চার লাখ টন যুক্ত হবে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। জুলাই-ডিসেম্বরের তেল কিনতে দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে।
বিপিসি সূত্র জানায়, ২৮ এপ্রিল বিক্রির পর ডিজেলের মজুত আছে ১ লাখ ৮১ হাজার টন, যা ১৫ দিনের মজুত। তিনটি জাহাজ থেকে ৭৫ হাজার টন ডিজেল খালাস হচ্ছে। খালাসের অপেক্ষায় আছে আরও ৩৩ হাজার টন। অকটেনের মজুত আছে ৪২ হাজার ৯৩৩ টন, যা ৩৫ দিনের মজুত। পেট্রলের মজুত আছে ১৭ হাজার ৬৪০ টন, যা ১২ দিনের মজুত। তবে পেট্রলের শতভাগ ও অকটেনের ৫০ শতাংশ দেশে উৎপাদন হয়। যদিও কাঁচামাল আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকে।
সোয়া ১০ লাখ টন তেলের কার্যাদেশ
সরাসরি চুক্তির আওতায় এখন পর্যন্ত ৯ লাখ টন ডিজেল, ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) ও ২৫ হাজার টন অকটেন কেনার কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ মার্চ পাওয়া নোয়া অনুসারে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ লাখ টন ডিজেল ও ২৫ হাজার টন অকটেন দেওয়ার কথা আরব আমিরাতের কোম্পানি পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশনের। হংকং থেকে ১ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের কথা নেদারল্যান্ডসের কোম্পানি এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের। ২৭ মার্চ এ কোম্পানির সঙ্গে কাজ পায় হংকংয়ের কোম্পানি সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। আজারবাইজান ও উজবেকিস্তান থেকে ২ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের কথা তাদের।
এক্সনমবিল কাজাখস্তান ইনকরপোরেশন নামের কোম্পানি কাজ পায় ৩ এপ্রিল। কাজাখস্তান-যুক্তরাষ্ট্র-নেদারল্যান্ডস থেকে ১ লাখ টন ডিজেল দেওয়ার কথা তাদের। ২ এপ্রিল কাজ পাওয়া মালয়েশিয়ার কোম্পানি আবির ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটস দেশটি থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল সরবরাহের কথা। ৮ এপ্রিল ১ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের কাজ পেয়েছে কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি। কাজাখস্তান থেকে তেল সরবরাহের কথা এ কোম্পানির। ১ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করতে ১৬ এপ্রিল কাজ পেয়েছে সুইজারল্যান্ডের ইয়ার এনার্জি। তারা নেদারল্যান্ডস থেকে তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে।
গতকাল বুধবার বিপিসি কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এদের মধ্যে শুধু আরব আমিরাতের পেট্রোগ্যাস কোম্পানি ২৫ হাজার টন ডিজেলের জন্য পিজি জমা দিয়েছে। ২৬ এপ্রিল বিপিসির সঙ্গে তেল সরবরাহের চুক্তি করেছে তারা। তবে মূল কোম্পানির পক্ষে ব্যাংকে পিজি জমা দিয়েছে স্থানীয় প্রতিনিধি। তেল সরবরাহের জন্য আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে তাদের। তেল সরবরাহের নিশ্চয়তা ও বন্দরের নাম পেলে ঋণপত্র খুলবে বিপিসি।
এর বাইরে কাজাখস্তান থেকে ১ লাখ টন ডিজেল ও ২৫ হাজার টন অকটেন সরবরাহ করতে অর্থনৈতিক মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদন পেয়েছে সিঙ্গাপুরের কোম্পানি ডিবিএস। আরও তিনটি কোম্পানির তেল সরবরাহের প্রস্তাব জ্বালানি বিভাগে পাঠিয়েছে বিপিসি।
অধিকাংশ কোম্পানির অভিজ্ঞতা নেই
বিপিসির সূত্র ও কয়েকটি কার্যাদেশের তথ্য বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি পরিস্থিতিতে সরাসরি কেনার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। শুরুতে প্রতিটি কোম্পানিকে পিজি জমা দিতে ২৮ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর চুক্তি করে বিপিসির ঋণপত্র খোলার পর আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হবে। এতে লম্বা সময় লেগে যাওয়ার কথা। আবার শেষ দিকে এসে কোনো কোনো কোম্পানিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে পিজি জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিপিসির কর্মকর্তা ও দেশে তেল ব্যবসায় যুক্ত পুরোনো ব্যবসায়ীরা বলছেন, অধিকাংশ কোম্পানির তেল সরবরাহের নিজস্ব কাঠামো নেই। এগুলো মূলত ট্রেডিং ধাঁচের কোম্পানি। এক জায়গা থেকে কম দামে কিনে অন্য খানে বিক্রি করতে চায়। তাদের অভিজ্ঞতাও খুব বেশি নয়। যেকোনো সংকটের সময় এমন অনেক কোম্পানি ভিড় করে। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও কম দামে তেল সরবরাহের কথা বলেছিল কিছু কোম্পানি। যদিও তখন কেউ সরবরাহ করতে পারেনি।
সরকারি কেনাকাটাবিষয়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) সাবেক মহাপরিচালক ফারুক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সরাসরি চুক্তির ক্ষেত্রে কোনো সময়সীমা নির্দিষ্ট নেই। তাই জরুরি পরিস্থিতিতে পিজি জমার সময় কমিয়ে দিতে হয়। এটি করা হলে কম সময়ে তেল কেনাকাটা শেষ করা যেত। শেষে এটি করেছে বিপিসি। তবে জরুরি হলেও যাচাই-বাছাই ছাড়া কাজ দেওয়া উচিত নয়। দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, আর্থিক সামর্থ্য দেখে কাজ দিলে তেল সরবরাহ না দিতে পারার কথা নয়।
সমকাল
সমকালের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘হামের পর নিউমোনিয়া ও অপুষ্টির শিকার শিশুরা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে যারা মারা গেছে, তাদের প্রায় ৯০ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে নিউমোনিয়া ও অপুষ্টিজনিত জটিলতার কারণে।
অন্য যারা মারা গেছে, তাদের ৩৩ শতাংশ মেনিনগোএনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের আবরণীর প্রদাহ) এবং ২২ শতাংশের ক্ষেত্রে সেপটিসেমিয়ার (রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া) মতো জটিলতা দেখা গেছে।
মারা যাওয়া শিশুদের বড় অংশই টিকাবঞ্চিত ছিল।
রাজধানীর তিন হাসপাতালে হামে মারা যাওয়া শিশুদের তথ্য বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতি তিন শিশুর একজনের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মারা গেছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৮ শতাংশ শিশুর বয়স ছয় মাসের কম, ৫০ শতাংশের বয়স সাত থেকে ১০ মাস এবং এক বছরের বেশি ৩২ শতাংশ।
ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কভিড হাসপাতালের পরিচালক কর্নেল ডা. লতিফা রহমান বলেন, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি একটি বড় সমস্যা। এর সঙ্গে নিউমোনিয়া যুক্ত হয়ে মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
দেশ রূপান্তর
দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘টার্গেট কিলিংয়ের ছক’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। তারা নতুন মেরুকরণে নেমেছে। দেশের বাইরে থাকা সন্ত্রাসীরা নিজেদের সহযোগীদের মাধ্যমে নতুন করে আধিপত্য বিস্তারে নেমেছে। আর কারাগারে থাকা সন্ত্রাসীরা তাদের সহযোগীদের বার্তা দিচ্ছে।
আর তাতে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড অস্থির হয়ে উঠেছে। নিজেদের সাম্রাজ্য ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রকরা।
গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ এখনো দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি, এ সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে তারা।
সম্প্রতি বেশকটি হত্যাকাণ্ড আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রকদের পুনরুত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।
তারা বলছেন, সন্ত্রাসীদের সহযোগীরাও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের চোরাচালান আসছে।
এদিকে, পুলিশ সদর দপ্তর সব ইউনিট, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার এসপিদের বিশেষ বার্তা দিয়েছে। ইন্টারপোলের সদর দপ্তরে আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীদের বিষয়ে নতুন করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কারাগার কর্তৃপক্ষকেও হাজতি ও বন্দি সন্ত্রাসীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বণিক বার্তা
বণিক বার্তার প্রথম পাতার শিরোনাম ‘রেল পরিচালনায় ভুল নীতিতে চলছে দেশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত, পাকিস্তানে রেলে যাত্রী পরিবহনে যে অর্থ খরচ হয়, তার একটা বড় অংশ ভর্তুকি দেওয়া হয় পণ্য পরিবহন থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব দিয়ে।
এর প্রভাবে রেলের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য ধরে রেখেছে দেশগুলো। প্রতি ১০০ টাকা আয় করতে গিয়ে দেশগুলোতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৯৮ টাকা।
চীন, জার্মানি বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে রেলওয়ে চলে মূলত ব্যবসার নিয়মে। তাদের মূল মন্ত্র হলো মালবাহী ট্রেন থেকে লাভ করে সেই টাকা দিয়ে যাত্রীসেবায় ভর্তুকি দেওয়া।
এজন্য তারা পণ্য পরিবহনের জন্য আলাদা রেললাইন (ডেডিকেটেড করিডর) ব্যবহার করে এবং বড় বড় কারখানা ও বন্দরের সঙ্গে সরাসরি রেলের সংযোগ রাখে।
তবে, উল্টোপথে হাঁটছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রতি ১০০ টাকা আয় করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ব্যয় করছে ২০৯ টাকা (২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাব)।
উল্লিখিত হিসাবে বছরে রেল আয় করে ১ হাজার ৮৪৬ কোটি। আয়ের সিংহভাগই আসে যাত্রী পরিবহন খাত থেকে। মালামাল (কনটেইনারসহ) পরিবহন করে আয়ের পরিমাণ মাত্র পাঁচ শতাংশ।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিজনেস মডেলে পণ্য পরিবহন খুব একটা গুরুত্ব পাচ্ছে না।
আজকের পত্রিকা
আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘কাঁদছে কৃষক, ভুগবে দেশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের বোরো মৌসুম শুরু হয়েছিল খরা দিয়ে, আর শেষ হচ্ছে টানা বৃষ্টিতে। সেই সঙ্গে দেশের উত্তর- পূর্বাঞ্চলে যোগ হয়েছে পাহাড়ি ঢল।
অতিবৃষ্টি ও ঢলে দেশের ধানের অন্যতম বড় উৎস ওই অঞ্চলের হাওর এখন পানির নিচে।
তাই শেষ সময়ে এসে পাকা ধান আর ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষক।
এতে কৃষকের গোলা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় গোলার ধানে টান পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হাওর এলাকার বড় অংশ পড়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়। যেখানে ডুবে আছে এক লাখের বেশি হেক্টর জমির বোরো ধান।
হাওরবেষ্টিত আরেক জেলা কিশোরগঞ্জে প্রায় ৬৫ শতাংশ ধান মাঠেই রয়ে গেছে।
এছাড়া, নেত্রকোনায় ২২১৫ হেক্টর জমির ধান ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এর পরিমাণ আরও বাড়বে।
হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজারেও হাওর এলাকার ধান পুরোপুরি কাটা শেষ হয়নি।
এদিকে, বৃষ্টির পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক হচ্ছে না উল্লেখ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী তিন থেকে চার দিন দেশের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘থইথই পানিতে ডুবছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘন্টায় টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের চাপে সুনামগঞ্জের জিনারিয়া হাওর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধানখেত তলিয়ে গেছে। মৌলভীবাজারের জুড়ীতে হাকালুকি হাওরে ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন, তলিয়ে গেছে পাকা বোরো ধান। নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন হাওরে হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে ধান কাটার কথা বলা হচ্ছে। অনেক স্থানে আধাপাকা ধান কাটছেন কৃষকেরা। কিন্তু অধিকাংশ হাওরেই এখনো প্রায় অর্ধেক বোরো ধান পানিতে তলিয়ে আছে। এতে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন হাওরপাড়ের কৃষক।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের চাপে বুধবার সকালে সুনামগঞ্জের বোলাই নদীর পাশের একটি খালের বাঁধ ভেঙে যায়। এতে পানি ঢুকে জিনারিয়া হাওরের ফসলি জমি তলিয়ে যায়। হাওরের অধিকাংশ জমিতেই জিরাতি করতে আসা কৃষকেরা চাষাবাদ করে থাকেন। হঠাৎ এ বিপর্যয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। মুখশেদপুরের কৃষক বক্ত সরকার বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট করে এই জমিতে ধান ফলিয়েছি। মাসের পর মাস বাড়িঘর ছেড়ে এখানে থাকছি। এখন সব পানির নিচে- আমরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলাম।’ আরেক কৃষক নিকেশ সরকার বলেন, ‘ধারদেনা করে জমি চাষ করেছি। ধান পাকাই ছিল, কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকায় কাটতে পারিনি। বাঁধ ভেঙে আমার ২০ কাঠা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।’ উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, জিনারিয়া হাওরের ২৬ হেক্টর জমির মধ্যে বাঁধ ভাঙার আগেই জলাবদ্ধতায় ৮ হেক্টর তলিয়ে ছিল। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর আরও প্রায় ৩ হেক্টর জমি পানির নিচে চলে গেছে।
জেলার ৫টি হাওর উপজেলা মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরি, কলমাকান্দা এবং আটপাড়া উপজেলায় ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে এবার বোরোর আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের মতে হাওরের প্রায় ৬৮ ভাগ বোরো ধান গতকাল বুধবার পর্যন্ত কৃষকরা ঘরে তুলতে পেরেছে। তবে কৃষকেদের মতে তারা ৫০ ভাগ ফসল এখন পর্যন্ত কাটতে পেরেছে। কারণ বৃষ্টি থামছে না ।খালিয়াজুরি উপজেলা কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃসক রুহুল আমিন জানান, তার ৫০ কাঠা (স্থানীয় হিসাবে ৫ শত শতাংশ) জমির বোরো জমি তলিয়ে গেছে। খালিয়াজুরির স্থানীয় বাসিন্দা কয়েস আজাদ আশরাফি জানান, খালিয়াজুরি হাওরের চার ভাগের তিন ভাগ বোরো ফসল তলিয়ে গেছে।
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা জানান, নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সোনাডুবি, সাইডুবি, পেটকি, মহিশাশুরা, গোরাডোবা ও আঙ্গাজুরাসহ বেশ কয়েকটি হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে মেদী, তেলেঙ্গাসহ কয়েকটি বিলের পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। আগাম বন্যার শঙ্কায় ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসনের তাগিদে কৃষকেরা এখন আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে দ্রুত ধান কাটার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। কিন্তু শ্রমিক ও জ্বালানি সংকটের কারণে হাওরের শতভাগ ধান কাটা সম্ভব হয়নি।
জুড়ী (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, দেশের বৃহত্তম হাকালুকি হাওরে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে হাওরজুড়ে বিস্তীর্ণ কৃষিজমির পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। যদিও জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, হাওরে ২৭,৩৫০ হেক্টর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ২২,৪০৯ হেক্টর বোরো ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে। যা উৎপাদনের ৮২%। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। স্থানীয় কৃষকরা আক্ষেপ করে বলেন, মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসে এমন আকস্মিক বৃষ্টিপাত তাদের সব পরিশ্রমকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
