সারা দেশে তিনদিনের টানা বৃষ্টিতে নাকাল হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এতে রাজধানীসহ বিভিন্ন নগরে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এ ছাড়াও বোরো ধান নিয়ে চরম সংকটে পড়েছে হাওরাঞ্চলের কৃষক। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণাসহ হাওরের নিচু এলাকার ধানক্ষেতগুলো তলিয়ে গেছে। পাকা ফসল ঘরে তুলতে না পেরে মাথায় হাত কৃষকের। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। এদিকে, চলমান বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি বলছে, এ পরিস্থিতি আগামী ৫ই মে পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সারা দেশে ঝরতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি।
জানা গেছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা (বজ্রমেঘ) তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে ঝরছে বৃষ্টি। মৌসুমি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। সাধারণ প্রাক-বর্ষা মৌসুমে হিমালয় ঘেঁষে আসা এই লঘুচাপের কারণে সাগর থেকে জলীয়বাষ্প নিয়ে আর্দ্র বাতাস উত্তরের দিকে প্রবাহিত হয় এবং উত্তরের হালকা বাতাসের সঙ্গে মিশে বৃষ্টি নামায়। লঘুচাপের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও এর আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য রয়েছে। নৌ- দুর্ঘটনা এড়াতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়াও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, টানা বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীর ধানমণ্ডি, মালিবাগ, গেণ্ডারিয়া, আরামবাগ, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে গেছে। সড়কের খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তে বৃষ্টির পানি জমে বেড়েছে দুর্ভোগ। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষসহ ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী। বরিশাল নগরীর বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে চলাচলের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের। টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাট শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ও বাজার এলাকায় পানি জমে জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে দোকানপাট ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। এদিকে, গতকাল সকালে চসিক মেয়রের পদক্ষেপে পানি নেমে কিছুটা স্বস্তি ফেরে চট্টগ্রাম নগরীতে। তবে দুপুরের পর বৃষ্টিতে নগরীর প্রবর্তক মোড় এলাকায় ফের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে আবারও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। দুপুরের পর হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পর পরই প্রবর্তক মোড় ও কাতালগঞ্জের আশপাশের নিচু এলাকায় পানি জমতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধান সড়কের একাধিক অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি ধীরগতিতে চলতে দেখা যায়। মঙ্গলবার কুমিল্লার ঈশ্বর পাঠশালা (উচ্চবিদ্যালয়) কেন্দ্রে জলাবদ্ধ কক্ষে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। কেউ বেঞ্চে পা তুলে, কেউবা পানিতে পা রেখেই পরীক্ষা দেয়।
যা বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর
আগামী পাঁচদিন সারা দেশে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং অতিভারী বর্ষণ হওয়ারও শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, আগামী তিনদিন ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।
এ ছাড়া আগামী ২রা মে সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। পরদিন ৩রা মে সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
