সরাইলের সড়কে বাজারে হাঁটু পানি, জনদুর্ভোগ

সরাইলের সড়কে বাজারে হাঁটু পানি, জনদুর্ভোগ

ফন্ট সাইজ:

গত দুইদিনের ভারী বর্ষণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের বিভিন্ন সড়কে ও বাজারে এখন হাঁটু পানি। উপজেলা সদরের প্রধান সড়কটি কাদা পানিতে সয়লাভ হয়ে আছে। সরাইল-অরুয়াইল সড়কের কয়েক জায়গায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা টেনে নিতে হচ্ছে। আর কালীকচ্ছ সদরের বাজারে লেগে আছে হাঁটু সমান পানি। ময়লা-আবর্জনায় দুর্গন্ধযুক্ত ওই পানিতে নাক চেপে হেঁটেই সদায় করছেন ক্রেতারা। মাধ্যমিক, কিন্ডারগার্টেনের পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মাথায় বৃষ্টি আর সড়কের কাদা পানি ভেদ করেই যাচ্ছে গন্তব্যে। সবমিলিয়ে বৃষ্টি হলেই এখানকার জনজীবনে এখন নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। এ জন্য দখল ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়- সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টি হলেই সরাইল সদর ও অন্যান্য ইউনিয়নের কতিপয় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। বেড়ে যায় জনদুর্ভোগ।

এরই ধারাবাহিকতায় বরাবরের মতো গত দুইদিনের ভারী বর্ষণে সরাইল সদরের প্রধান সড়ক, সরাইল-অরুয়াইল সড়ক ও কালীকচ্ছ বাজারে আটকে গেছে পানি। কারণ মনগড়া দখলে এসব জায়গার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এখন প্রায় বন্ধ। ফলে সড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও পথচারীদের নাভিশ্বাস উঠছে। সরাইল সদরের হাসপাতাল মোড় থেকে সকাল বাজার এলাকা পর্যন্ত সড়কটি বৃষ্টি হলেই পায়ে হেঁটে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কার্পেন্টিং ও সিসি ঢালাই উভয় অংশই ইরি চাষের জমির মতো হয়ে যায়। কয়েকটি জায়গায় লেগে যায় পানি। স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা চরম বেকায়দায় পড়ে।

মসজিদের মুসল্লিরা পরনের কাপড় কাদা পানি থেকে রক্ষা করতে পারেন না। এই সুযোগে বেড়ে যায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া। সমাজকর্মী মো. রওশন আলী বলেন- এমন দুর্বিষহ জীবনযাপন আর কোথাও নেই। দখলদারদের কবল থেকে পানি নিষ্কাশনের জায়গা মুক্ত করে ব্যবস্থা করতে হবে। জনস্বার্থে উচ্ছদই এখন সময়ের দাবি। সরাইল-অরুয়াইল সড়কের পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে টেনে পার করছেন যাত্রীরা। রোগী ও বৃদ্ধ লোকজন পড়ছেন বিপাকে। পাকশিমুল ইউপি চেয়ারম্যান মো. কাউছার আহমেদ বলেন- সড়কের দু’পাশে উঁচু করে বাড়ি ও দোকানপাট করেছেন। তাই পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। আর রাস্তার সংস্কার তো অনেক বড় বাজেটের কাজ। এটা ইউনিয়ন পরিষদের দ্বারা সম্ভব না।

কর্তৃপক্ষকে সংস্কারের বিষয়টি জানিয়েছি। কালীকচ্ছ সদরের একমাত্র বাজারটি বৃষ্টি হলেই পুকুরে পরিণত হয়। বাজারটির আশপাশের পানি নিষ্কাশনের জায়গা দখলে নিয়ে রেখেছেন স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী। এ ছাড়া বাজারের কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক পরিবারের একাধিক সদস্যকে কোনো কাগজপত্র ছাড়া বিনা ভাড়ায় জায়গা/দোকানের দখল দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। সমাজকর্মী ও বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী এস.কে সজল বলেন- যথাযথ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই কালচে রংয়ের পানি জমে থাকে বাজারে। বিষাক্ত ও জীবাণুযুক্ত পানির উপর দাঁড়িয়ে আমাদের বাজার করতে হয়। বাঁচতে হলে সংশ্লিষ্টদের এ থেকে পরিত্রাণের ব্যবস্থা নেয়া খুবই জরুরি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন