সব ক্ষেত্রে করের সুবিধা দিতে পারবে না সরকার: অর্থমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

সরকার অর্থনীতির কঠিন সময়ে সব ক্ষেত্রে করের সুবিধা দিতে পারবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, তবে ব্যবসা সহজীকরণে আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। গতকাল রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আগামী অর্থবছরের বাজেটের ওপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআই আয়োজিত পরামর্শক কমিটির বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এনবিআরের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। পুরো বৈঠক সঞ্চালনা করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক আবদুর রহিম খান। বৈঠকে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতারা বক্তব্য দেন। বড় বাজেট দেয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, গুণগত মানসম্পন্ন বিনিয়োগ দরকার। বাজেট বড় করা না হলে কেউ বিনিয়োগ করতে আসবেন না। আবার উন্নয়ন বাজেটও বাড়াতে হবে। নইলে মোট দেশজ উন্নয়নের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে না। তিনি বলেন, বিনিয়োগ যেমন দরকার, বিনিয়োগের রিটার্নও দরকার। মেগা প্রকল্প করে অর্থ পাচার করলে তো সমস্যা।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুনে খারাপ লাগতে পারে, আগামী বাজেটে ইচ্ছা থাকলেও সুযোগ-সুবিধা হয়তো দিতে পারবো না। তবে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে যেসব বাধা বিদ্যমান রয়েছে, সেগুলো সরিয়ে নেয়া হবে। বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধিই দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সেবা মাশুল ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির দরকার ছিল না উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বন্দরে দুর্নীতি ও ব্যবসা করার ক্ষেত্রে বাধা সরিয়ে দেয়া হবে। ব্যবসায়ের যত বাধা আছে, সরকারকে জানালে আগামী তিন মাসের মধ্যে সেগুলো সরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কোথায় কোথায় ব্যবসায়ীরা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন, তা জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে নতুন সরকারকে বাড়তি প্রায় ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করতে হয়েছে। অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে সময় চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আইএমএফকে বলেছি যে, আমাদের দুই বছরের কুশন দরকার। তৃতীয় বছর থেকে অর্থনীতি গতি পাবে।

তৈরি পোশাক খাত ভালো করলেও স্বর্ণ বা হীরাশিল্পের মতো অন্যান্য খাত পিছিয়ে রয়েছেÑএ কথা উল্লেখ করে পিছিয়ে থাকার কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন থেকে যেকোনো সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত যদি প্রস্তাব দেয়, তবে তাদের পোশাকশিল্পের সমান সুবিধা দেয়া হবে। চুরির ভয়ে আমরা খাতগুলো আটকে রাখবো না। চুরির সমাধান আলাদাভাবে হবে, কিন্তু ব্যবসার সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়াতে ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড ও ওয়ার ওয়ালেটÑএমন পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে করদাতা ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ কমানো হবে, যা দুর্নীতি কমাবে। মন্ত্রিসভায় ইতিমধ্যে এ বিষয়ক ডিজিটাল প্রকল্প পাস হয়েছে। কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে ব্যবসায়ী সংগঠন ও চেম্বারগুলোকে সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, যারা এখনো কর জালের বাইরে থেকে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছেন, তাদের করের আওতায় আনতে ব্যবসায়ীদের সহায়তা চান। তিনি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি নয়, বরং অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণে বিশ্বাসী বর্তমান সরকার।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন