হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে হত্যা ও প্রতারণার একাধিক মামলাসহ গজনাইপুর ইউনিয়নের লোগাঁও গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজপুত্র ফয়েজ আমিন রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে এ খবর নিশ্চিত করে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ। এর আগে গত ২০শে এপ্রিল বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় নিষেধাজ্ঞা থাকায় শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। খবর পেয়ে গুলশান থানার এসআই কে এম মফিজুর রহমান তাকে নিজ হেফাজতে এনে ২২শে এপ্রিল আদালতে প্রেরণ করেন। এ সময় তাকে পরোয়ানাভুক্ত তিনটি মামলায় আইনি পদক্ষেপ না নেয়া পর্যন্ত আটক রাখার আবেদন করা হয়।
দিনারপুর পরগণার ত্রাসখ্যাত ফয়েজ আমিন রাসেলের বিরুদ্ধে সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নির্বিচারে গুলি ও গজনাইপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খয়ের গোলাপকে সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার করিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ছাড়াও একাধিক মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ ও আদালতে প্রেরিত আবেদন সূত্রে প্রকাশ, হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় পলাতক আসামি ফয়েজ আমিন রাসেলকে তার পাসপোর্ট সূত্র ধরে আটকের পর প্রয়োজনীয় পুলিশ স্কটের মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করা হয়। সে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার খবর গোপন সূত্রে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গুলশান থানায় ২১শে এপ্রিল একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরই সূত্র ধরে ডিউটি চলাকালে পিংক সিটি ২১ গুলশান থানাধীন ১ নম্বর মোড়ে অবস্থানকালে এসআই কে এম মফিজুর রহমান রাসেলকে আটকের খবর পান। গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে এজাহারনামীয় জামিনে পলাতক আসামি রাসেলকে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের নিকট থেকে ধৃত রাসেলকে নিজ হেফাজতে গ্রহণ করেন।
আসামির সিএমএস পর্যালোচনায় দেখা যায়, তার বিরুদ্ধে গত ২৫শে সেপ্টেম্বর নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ ছাড়া, ২৫শে আগস্ট মৌলভীবাজার সদর থানায় ও চলতি বছরের ২৫শে ফেব্রুয়ারি গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উল্লেখিত তিনটি মামলায়ই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে রাসেলকে দায়েরকৃত জিডির ভিত্তিতে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আসামিকে আটকের বিষয় এবং মুলতবি থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে।
মুলতবি থাকা পরোয়ানা নিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে রাখা হবে মর্মে গুলশান থানার এসআই কে এম মফিজুর আদালতে আবেদন করেন। ঢাকা মেট্রোপলিটনের বিচারক আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ শুনানি শেষে আগামী ৭ই মে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে রাসেলকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। উল্লেখ্য, ফয়েজ আমিন রাসেল সিলেটের সাবেক মেয়র ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর ক্যাডার হিসেবে পরিচিত।
