মার্কিন পাসপোর্টে ট্রাম্পের ছবি যুক্ত করার পরিকল্পনা

মার্কিন পাসপোর্টে ট্রাম্পের ছবি যুক্ত করার পরিকল্পনা

ফন্ট সাইজ:

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ছবি শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পাসপোর্টে যুক্ত করা হবে। মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এর মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিজের ব্যক্তিগত ছাপ বসানোর আরেকটি নজির গড়তে যাচ্ছেন তিনি। ট্রাম্পের এমন উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছে বিরোধী ডেমোক্রেটরা। তারা বলেছে, এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প তার অহংবোধ প্রকাশ করছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এতে আরও বলা হয়, বিশ্বে, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি পাসপোর্টে প্রদর্শনের নজির খুবই কম। এক্ষেত্রে ট্রাম্পই হবেন প্রথম বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যার ছবি আমেরিকানদের ভ্রমণ নথিতে যুক্ত হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে সীমিত সংস্করণের এই বিশেষ পাসপোর্ট চালু করা হবে।

ঐতিহাসিকভাবে দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকা এই বিভাগটি সামাজিক মাধ্যমে একটি নমুনা পাসপোর্ট প্রকাশ করেছে। এতে ৪ঠা জুলাই ১৭৭৬ সালের ঘোষণাপত্রের ওপর ট্রাম্পের একটি গম্ভীর মুখের ছবি বসানো রয়েছে। এর নিচে সোনালি অক্ষরে তার স্বাক্ষরও রয়েছে। আরেকটি সীমিত সংস্করণের পাসপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের একটি ঐতিহাসিক চিত্রকর্ম দেখানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন জুলাইয়ে তার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করবে, তখন এই বিশেষভাবে নকশা করা সীমিত সংখ্যক পাসপোর্ট প্রকাশের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প-থিমযুক্ত পাসপোর্টগুলো শুধুমাত্র ওয়াশিংটনে সরাসরি উপস্থিত আবেদনকারীদের জন্য সীমিত সময়ের জন্য পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, এই পাসপোর্ট পেতে অতিরিক্ত কোনো খরচ লাগবে না। তবে আবেদনকারীরা চাইলে ট্রাম্পের ছবি ছাড়া পাসপোর্ট নিতে পারবেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, বেশির ভাগ আমেরিকান স্থানীয় পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাসপোর্ট করে থাকেন। সেখানে এই বিশেষ সংস্করণ পাওয়া যাবে না।

বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ডেমোক্রেট সদস্যরা এক্সে লিখেছেন, ট্রাম্পের অহং তুষ্ট করতে করদাতাদের অর্থ অপচয় না করে সেক্রেটারি রুবিওর উচিত তার বসকে ইরানে নিজের পছন্দের যুদ্ধ বন্ধ করতে রাজি করানো।

ওদিকে, যেসব দেশে পাসপোর্টে শিল্পকর্ম ব্যবহার করা হয়, সেখানে সাধারণত ঐতিহাসিক দৃশ্য বা প্রকৃতির ছবি থাকে। এমনকি উত্তর কোরিয়াতেও সেখানকার নেতা কিম জং উনের ছবি ব্যবহার করা হয়নি পাসপোর্টে। বরং সেখানে পবিত্র পায়েক্তু পর্বতের ছবি রয়েছে। অথচ উত্তর কোরিয়ার সর্বত্র কিমের ছবি সর্বত্র দেখা যায়। বর্তমান মার্কিন পাসপোর্টে দেশের ইতিহাসের বিভিন্ন দৃশ্য যেমন চাঁদে অবতরণ এবং ঐতিহাসিক স্থান যেমন স্ট্যাচু অব লিবার্টির ছবি দেখা যায়।
গত বছর ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ট্রাম্প নজিরবিহীনভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিজের নাম ও ছবি যুক্ত করছেন। রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ভবনে তার ব্যানার টানানো হয়েছে।

পাশাপাশি কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস এবং ভেঙে দেয়া ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস-এর সঙ্গেও তার নাম যুক্ত করা হয়েছে। গত মাসে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানায়, শিগগিরই মার্কিন ডলার নোটেও ট্রাম্পের স্বাক্ষর যুক্ত হবে, যা আরেকটি নতুন নজির। অন্যদিকে বৃটেন ও অন্যান্য কমনওয়েলথভুক্ত দেশের মুদ্রায় রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতিকৃতি থাকে, যদিও তিনি সরাসরি রাজনীতিতে জড়িত নন। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে এক রাষ্ট্রীয় সফরে রাজা চার্লসের সঙ্গে ট্রাম্পের সাক্ষাৎ হয়েছে।

সমীক্ষা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় অর্ধেক মানুষের বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে, যা অনেক পশ্চিমা দেশের তুলনায় কম। এছাড়া যেসব অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প বেশি সমর্থন পেয়েছেন, সেসব এলাকার মানুষ আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কম করে থাকেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন