তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সমীক্ষা শেষ করেছে

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সমীক্ষা শেষ করেছে

ফন্ট সাইজ:

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে একটি সমীক্ষা শেষ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মো. মাজেদুর রহমানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

তারেক রহমান বলেন, ‘তিস্তা নদী দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূ-প্রকৃতিগতভাবে তিস্তা একটি খরস্রোতা নদী। বর্ষা মৌসুমের অতিবৃষ্টিতে এ অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও নদী ভাঙনের ঘটনা ঘটে। পক্ষান্তরে, শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গিয়ে অনেক স্থানে পানিপ্রবাহ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির সঙ্গে ব্যাপক মাত্রায় পলি প্রবাহের কারণে তিস্তা নদী ভরাট হয় এবং একাধিক চ্যানেলে বিভক্ত হয়ে পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘এ প্রেক্ষিতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে একটি সমীক্ষা সমাপ্ত করেছে। উক্ত সমীক্ষা প্রতিবেদনে তিস্তা মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং কাজ বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। যার মধ্যে মাননীয় সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকার তিস্তা নদীর অংশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দাখিলকৃত সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কারিগরি ও আর্থিক বিষয়সমূহ বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাধীন রয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম সমাপ্ত এবং কারিগরি দিক থেকে বিষয়টি ইতিবাচক হলে কাজটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।’

সংসদ ইকরামুল বারী টিপুর টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ সালের ১০ অক্টোবর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর পরই ২৩ অক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সার্বিক কল্যাণার্থে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই মন্ত্রণালয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক কল্যাণার্থে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘‘তারই ধারাবাহিকতায় মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণে এ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘১৯৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত বধ্যভূমিসমূহ সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৭৬টি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতি জাদুঘর এবং ৫৪টি বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রকল্পটি ডিসেম্বর ২০২৫ এ সমাপ্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, উক্ত প্রকল্পের আওতায় নওগাঁ জেলার সাহাপুর, দোগাছি ও আতাইকুলা বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।’’

তারেক রহমান বলেন, ‘‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষা ও মুক্তিযুদ্ধকালীন বধ্যভূমি ও গণকবর চিহ্নিত করার অংশ হিসেবে এ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘১৯৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত বধ্যভূমিসমূহ সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে। মান্দা উপজেলার ঐতিহাসিক পাকুরিয়া বধ্যভূমিতে ১৯৭১ সালের ২৮ আগস্ট নিহত ১২৮ জন শহিদের স্বীকৃতি, বধ্যভূমিটি সংরক্ষণ এবং মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি যাদুঘর প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সরকারের বিবেচনাধীন থাকবে।’’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন