সৌদি আরবের জেদ্দায় উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের(জিসিসি) শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরু হবার পর এই প্রথমবারের মতো জিসিসি দেশগুলোর শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি বৈঠকে মিলিত হলো।
মঙ্গলবারের এই বৈঠকে প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রেক্ষিতে জিসিসি দেশগুলোর যৌথ প্রতিক্রিয়া নিয়ে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এই প্রণালি দিয়ে জিসিসি দেশগুলোর অধিকাংশ তেল, গ্যাস, অ্যামোনিয়া, হিলিয়ামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হয়।
বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এইসব দ্রব্যের রপ্তানি এখন থমকে আছে। এই সম্মেলন যখন চলছে নাটকীয়ভাবে নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে। দেশটি আগামী ১ মে থেকে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। ওপেকের তৃতীয় বৃহত্তম এবং বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম তেল উৎপাদক দেশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আমিরাত সরকার জানিয়েছে, তাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটি বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৩৬ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে বাড়িয়ে ৫০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংবাদ সম্মেলনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসানে একটি সমন্বিত ও স্থায়ী চুক্তির প্রয়োজন। তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
