ফেনীতে স্বস্তির বৃষ্টিতে অস্বস্তি

ফন্ট সাইজ:

ফেনীতে টানা তিনদিনের ঝড়-বৃষ্টিতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ ও ভোগান্তি শুরু হয়েছে। অস্বস্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার কৃষক। পাকা ধান ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পানিতে ডুবে। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে শুরু হওয়া কালবেশাখী ঝড় ছিল টানা দেড় ঘণ্টা। এতে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম। ঝড়ের কারণে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে বিভিন্ন গ্রামের ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মুশলধারের বৃষ্টিতে ডুবে গেছে জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক। এতে যান চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন চালক ও যাত্রীসহ পথচারীরা। কালবৈশাখী ঝড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় রোববার রাত থেকেই বেশির ভাগ এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে।

পরশুরাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মু. সুহেল আখতার বলেন, গত রোববার ঝড়ে ৩৩ কেভি লাইনসহ সব ১১ কেভি লাইনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। একাধিকস্থানে খুঁটি ভেঙে যাওয়া এবং লাইনের ওপর গাছ পড়ে থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ফুলগাজী জোনের ডিজিএম মো. হাবিবুর রহমান জানান, গত রেববার উপজেলার ১০টি ফিডারের সবগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারওপর গতকালের ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সময় লেগে যাবে।

সদর উপজেলা, দাগনভূঞা ও সোনাগাজীতেও তাণ্ডব চালিয়েছে ঝড়। এতে নানা স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হঠাৎ এই দুর্যোগে ফেনীর হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার নূর হোসাইন বলেন, ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়। বিদ্যুৎ কর্মীরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিতের কাজ শুরু করলেও মঙ্গলবারের ঝড়ে ফের লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে। জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, রোববার রাতে ও মঙ্গলবার দুপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার বিভিন্ন গ্রামে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর তালিকা করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন