ফরিদপুর সদর উপজেলার গদাধর ডাঙ্গির আলোচিত একই পরিবারের দুইজনসহ তিন খুনের ঘটনায় এলাকায় এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এদিকে খুনির ভয়ে রাতভর মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করলেও ভোরে তার আটকের খবরে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকাবাসী এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছে।
সোমবার রাত নযটার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধর ডাঙ্গির হারুন মোল্লার বাড়িতে একই পরিবারের দাদি ও ফুফুসহ প্রতিবেশী এক রিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হারুন মোল্লার পুত্র আকাশ মোল্লা দা ও কোদাল দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে দাদি আমেনা বেগম ও রাহেলা বেগমকে হত্যা করে। এ সময় তাদের শোর চিৎকারে রাস্তা থেকে কাবুল চৌধুরী নামের রিকশাচালক এগিয়ে গেলে তাকেও কুপিয়ে হত্যা করে আকাশ। তাদের আর্তচিৎকারে লোকজন ছুটে আসলে হত্যাকারী যুবক বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি কলাবাগানে লুকিয়ে থাকে। ভোরে সেখান থেকে র্যাব ও পুলিশ তাকে আটক করে। বর্তমানে তিনটি লাশই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে।
এদিকে পুলিশ প্রশাসন ও হত্যাকারীর পরিবার যুবকটি মানসিক ভারসাম্য বলে দাবি করলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনাটাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য নাটক সাজানো হচ্ছে। কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার পর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়। ভোরের দিকে পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বাড়ির অদূরের একটি কলাবাগান থেকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে রক্তমাখা কোদাল ও লুঙ্গি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত যুবকের কথাবার্তা কিছুটা অসংলগ্ন ছিল বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং করে পলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, ঘাতক আকাশকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় অর্থনৈতিক দুর্গতি ও বিবাহ না দেয়ার কারণে সে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
